গৃহকর্মী নির্যাতন
খাসকামরায় গিয়েও স্বীকারোক্তি দেননি বিমানের সাবেক এমডি
স্টাফ রিপোর্টার : ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) শফিকুর রহমান ও তাদের আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়।
এ সময় তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রুবেল মিয়া।
সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবেরুনী মীরের খাসকামরায় নেওয়া হয়।
এ সময় সুফিয়া বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে বিমানের সাবেক এমডি শফিকুর রহমান জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তা রেকর্ড করা হয়নি। এরপর বিচারক তাদের উভয়কে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি শফিকুর রহমানের পাঁচ দিন ও তার স্ত্রী বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এছাড়া দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। রিমান্ড শেষে সুফিয়াকে বৃহস্পতিবারই কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর বিথীকে এখনও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় হোটেলকর্মী বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় গত ২ ফেব্রুয়ারি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানায়, বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে খুঁজছে। পরে তাদের সঙ্গে মোস্তফা দেখা করেন।
শফিক ও তার স্ত্রী মোস্তফাকে জানায়, তারা মেয়ের বিবাহসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে।
তাতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন মোস্তফা। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় মোহনাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন তিনি।
এরপর আসামিরা আর মোহনাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি আসামি বিথী বাদী মোস্তফাকে ফোন করে জানান, মোহনা অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতেও বলেন। এরপর তাকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। বাসায় গেলে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামি বিথী শিশু মোহনাকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেন।
তখন মোস্তফা মোহনার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। সে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। বাদী বিথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
বাদীকে তার মেয়ে মোহনা জানায়, গত ২ নভেম্বর বাদী দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারধরসহ খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে।
(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬)
