রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বসতঘর, গোয়ালঘর ও রান্না ঘরসহ রেকডীয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণের পর অব্যবহৃত ৫৮শতক জমি জবরদখলকারি বৃদ্ধ রতন বৈদ্যকে দুই চোখ উপড়ে, দুই পা কেটে খালে ফেলে দেওয়া ছাড়াও দেশ ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে পারকুকরালি ঈদগাহ ময়দানের বটতলায় পরাককুরালি গ্রামের আবু সাঈদ এ হুমকি দেন।  প্রতিকার চেয়ে রতন বৈদ্য মঙ্গলবার সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পারকুকরালি গ্রামের রতন বৈদ্য (৭২) জানান, তার বাবা ফুলচাঁদ বৈদ্যের নামে রেকডীয় ৬৬ শতক জমির মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রাণসায়ের খাল সংস্কারের লক্ষ্যে রামদেবপুর মৌজার বিআরএস ৩২৩৬,৩২৩৭,৩২৬৮ দাগের ৫১ শতক জমি ১৯৯৩ সালে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ওই জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ২০০৩ সালে খাল খননের সময় ওই জমি কাজে লাগেনি। ফলে তাদের মালিকানাধীন জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবহৃত জমি হিসেবে তারা শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে ছিলেন। জমি ফিরে পেতে টাকার অভাবে আদালতে মামলা না করতে পারলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ডিসিআর পাওয়ার আবেদন করেন। তবে ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় আজো ডিসিআর মেলেনি।

রতন বৈদ্য অভিযোগ করে বলেন, অধিগ্রহণের পর অব্যবহৃত জমির উপর কুনজর পড়ে একই গ্রামের হামিজউদ্দিনের ছেলে ভূমিদস্যু আবু সাঈদের। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই সাঈদ ও তার ভাই আবু সালেক ভাড়াটিয়া লোকজনের সহযোগিতায় তার (রতন) বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরসহ সাত শতক পৈতৃক রেকডীয় জমি ও ৫১ শতক অধিগ্রহণের পর অব্যবহৃত ৫১ শতক জমি জবরদখল করে নেয়। বাধা দেওয়ায় তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে ছুঁটে আসের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাতক্ষীরা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল, জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন, বিকাশ দাস, অসীম দাস সোনা, মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁসহ কয়েকজন। এরপর থেকে তাকে তার ছোট ছেলে মেঘনাথ বৈদ্যর বাড়িতে বসবাস করতে হয়। কখনও সাংবাদিক আবার কখনো মানবাধিকার কর্মী বা বিএনপি নেতা আবু বক্করের পরিচয় দেওয়া সাঈদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেও ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়িতে বসাবসি করেও কোন লাভ হয়নি।

একপর্যায়ে ১৫ জুলাই তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সাঈদ ও সালেকসহ তিনজনকে বিবাদী করে পিটিশন-১৩৮৩/২৪ নং মামলা করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে ওই জমি তার (রতন) বলে উল্লেখ করা হয়। গত বছরের ১৭ মার্চ স্ব-স্ব অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করেন আদালত। এরপরও গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে তিনি পারকুকরালি ঈদগাহ ময়দানের বটতলায় অবস্থান করাকালিন আবু সাঈদ তার দুই চোখ উপড়ে, দুই পা কেটে খালে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি তাকেসহ কোন হিন্দুকে দেশে রাখা হবে না বলে হুমকি দেয়। পরদিন তিনি থানায় অভিযোগ করলে গত রবিবার বিকেল ৫টার দিকে সদর থানার সহকারি উপপরিদর্শক নাজমুস সাকিব ঘটনার তদন্তে গেলে আবু সাঈদ বুক ফুলিয়ে হুমকির কথা স্বীকার করেন। এরপর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ ব্যাপারে আবু সাঈদ মুঠোফোনে নিজেকে সাংবাদিক, সাংবাদিকের ভাই ও মানবাধিকার কর্মী দাবি করে এ প্রতিবেদককে হুমকির বিষয়টি অস্বীকার না করেই বলেন, তিনি ওই জমি পৈতৃক ক্রয়সূত্রে পেয়ে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর নাসিমা খাতুনের কাছে ২০ শতক বিক্রি করেছেন। রতন বৈদ্য তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার সহকারি উপপরিদর্শক নাজমুস সাকিব মঙ্গলবার দুপুরে মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি রবিবার বিকেলে অভিযোগের তদন্তে গেলে হুমকির বিষয়টি কৌশলে অস্বীকার করেননি আবু সাঈদ।

(আরকে/এএস/ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬)