দিনাজপুরে পাচারের সময় কৃষকদের হাতে ধরা পড়েছে ৮৩ বস্তা সার
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : পাচারের সময় দিনাজপুরে কৃষকদের হাতে ধরা পড়েছে ৮৩ বস্তা সার। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা মহাসড়ক প্রায় সাড়ে ২ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে এতে দিনাজপুর-ফুলবাড়ী মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। পরে স্থানীয় প্রশাসন সারগুলো জব্দ করে এবং দুইজন অবৈধ সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করলে রাত ১২টার দিকে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আমতলী বাজারে ৭টি ভ্যানে থাকা ৮৩ বস্তা রাসায়নিক সার আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক ইমতিয়াজ জানান, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা থেকে সদর উপজেলায় বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক সার ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় ৮৩ বস্তা সার আটক করে। এ সময় কৃষকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে দিনাজপুর-ফুলবাড়ী মহাসড়ক-এর দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে স্থানীয় প্রশাসন সারগুলো জব্দ করে এবং দুইজন অবৈধ সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করলে রাত ১২টার দিকে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পুনট্টি ইউনিয়নের ডিলারের কাছে ধর্না দিয়েও তারা সার পাচ্ছিলেন না। ডিলার গোপনে সারগুলো বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় চিরিরবন্দর উপজেলার আমতলী বাজারে ৭টি ভ্যানে একযোগে সদর উপজেলা অভিমুখে সার নিয়ে যেতে দেখলে তাদের সন্দেহ হয়। উপস্থিত কৃষকরা ভ্যানগুলো আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এ সময় ভ্যানচালক ও ভ্যানে থাকা সারের ক্রেতারা জানান, তারা সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং সারগুলো সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সার বিক্রির নীতিমালা অনুযায়ী এক উপজেলার সার অন্য উপজেলায় নিয়ে যাওয়া ও বিক্রি করা যায় না। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে অসংখ্য কৃষক সেখানে জড়ো হন। রাত ১০টার দিকে তারা দিনাজপুর-ফুলবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এ খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেহা তুজ জোহরা, কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা এবং ওসি মাহমুদুন নবী ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে আটক ভ্যানচালক ও সার ক্রেতাদের তথ্যের ভিত্তিতে সারগুলো জব্দ করা হয়।
একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ডিলার আব্দুর রহিমের ম্যানেজার, অবৈধ সার ব্যবসায়ী মাহামুদুলকে ৫০ হাজার টাকা এবং আরেক সার বিক্রেতা জাহাঙ্গীরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সারগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিন আলমের হেফাজতে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়। পরে কৃষকরা অবরোধ তুলে নিলে রাত ১২টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জব্দকৃত সারের মধ্যে ডিএপি ২১ বস্তা, ইউরিয়া ১৯ বস্তা, টিএসপি ৬ বস্তা, পটাশ ২৯ বস্তা এবং জিপ ৮ বস্তাসহ মোট ৮৩ বস্তা সার ছিল। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সারগুলো স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি মূল্যে বিক্রি করে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিলারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
(এসএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬)
