ময়মনসিংহের ফুটপাত হকারদের দখলে
মাসে ১৫ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজি, প্রশাসন নিশ্চুপ
নীহার রঞ্জন কুন্ডু, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ শহরের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র গাংগীনার পাড় মার্কেট অবৈধ দখল ও ফুটপাতের দোকানের কারণে সারাদিন যানজট লেগেই থাকে জনবহুল এই এলাকায়। সড়কের ডিভাইডারের এপাড়-ওপারে বসানো হয়েছে ফুটপাত। দিনের বেলা ও সন্ধ্যার পর ফুটপাতে থাকে না তিল ধারণের ঠাঁই। যার কারণে পথচারীদের পোহাতে হয় ভোগান্তি। সড়কে লেগে থাকে তীব্র যানজট। আর অবৈধ এই দখলের নেপথ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি। প্রতি মাসে এই এলাকায় মোটা অংকের টাকা চাঁদাবাজি হয়। এই চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের নেতারা যুক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ময়মনসিংহ শহরের গাংগীনার পাড় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পুরো এলাকার ফুটপাথে শত শত জামা-কাপড়, জুতা-স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন পণ্যের হকারির দোকান। সবমিলিয়ে গাংগীনার পাড় এলাকায় ফুটপাত দোকান রয়েছে আড়াইশো থেকে তিনশো।
চাঁদাবাজিতে যারা জড়িত
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলের নেতারা এসব চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। মধ্যম সারির নেতাদের ছত্রছায়া ও পুলিশের সহযোগিতায় এসব চাঁদাবাজি হচ্ছে। আবার কখনো নামে, কখনো বেনামে চাঁদাবাজি করেন নেতারা। বেশিরভাগ নেতাই বেনামে চাঁদাবাজি করেন। আর কখনও ঝামেলায় পড়লে পুলিশকে ব্যবহার করা হয় মীমাংসা জন্য।যাতায়াত সহজ ও হকারদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন তৎপরতা চলমান নেই পুলিশের।
জানতে চাইতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, গাংগীনার পাড় ফুটপাতে দোকান করার বিনিময়ে প্রতি দিন নেতাদের দিতে হয় চাঁদা। চাঁদার পরিমাণ দোকান প্রতি ১৫০/২০০ টাকা। ছোট-বড় দোকান ভেদে আবার চাঁদার পরিমাণ বাড়ে কমে। এসবই অবৈধভাবে ভোগ করছেন বিভিন্ন নামে বেনামে পুলিশ/নেতারা। সেই হিসাবে প্রতি মাসে পনেরো লক্ষাধিক (টাকা) ফুটপাত থেকে চাঁদা পান তারা।
দোকানিদের অভিযোগ, এক সময় এই এলাকায় চাঁদাবাজি করতেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ক্ষমতার পালাবদলে এই চাঁদাবাজির সঙ্গে এবার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফুটপাতে কেউ কেউ ৩-৪টি পর্যন্ত দোকান নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রতি মাসে এসব দোকান থেকে তারা নির্ধারিত চাঁদা আদায় করেন। এ সকল অভিযোগ সরাসরি দোকানীরা করে থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বহ্নিস্কৃত নেতা বলেন, বেশিরভাগ নেতা বড় এক নেতার নামে-বেনামে চাঁদা আদায় করেন। নিজের নামে চাঁদাবাজি করেন খুবই কম নেতা। কেউ যাতে তাদের ধরতে না পারে এবং যাতে ক্লিন ইমেজে থাকতে পারেন, এজন্য বেনামে চাঁদাবাজি করেন। এতে ব্যবহার করেন ইন্তা নামের এক টোকাই নেতা। আর মাঠে টাকা তুলেন হিরন নামের এক নেশাখোর ব্যক্তি। ফুটপাত ব্যবসায়ীরা জানান, ইন্তা নেতার আন্ডারে ফুটপাত চলে।
রাস্তা যেন ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে, শহরের গাংগীনার পাড় থেকে স্টেশন রোড ট্রাফিক মোড় পর্যন্ত হাফ কিলোমিটা রাস্তায় প্রায় ৩ শত দোকান ফুটপাতে বসে। মাত্র ৩০ ফুটের রাস্তার বেশীর ভাগ দখলে থাকে ফুটপাত ব্যবসায়ীর। আগের পৌর প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রায় এক বছর ফুটপাত বসতে না দিয়ে জানযট ও জন সাধারনের চলাচল সহজ করে ছিলেন। তৎসময়ে ফুটপাতে এতো চাঁদাবাজী ছিলোনা। এখন ফুটপাত ভাড়া দিয়ে ধুমছে চলছে চাঁদাবাজী।
ফুটপাতের ব্যপারে ১ নম্বর ফাড়ি ইনর্চাজ মাহবুব মিলকী জানান, আমি গাংগীনার পাড় রাস্তায় ফুটপাত বসতে দেইনা। তিনি বলেন আমি ফাড়িতে নেই ২৬ তারিখে আসবো।
শহরের মালগুদাম, স্টেশনের ২ নম্বর গেইট এলাকা, মেডিকেল গেইট, কৃষ্টপুর ও বাঘমারা এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও কুখ্যাত ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে। সুইচ গিয়ার চাকুপাটীর এক তার নেতার সাথে সখ্যতা ছিলো সাবেক আইসি’র। ফুটপাতের টাকা, আবাসিক হোটের টাকা, মাদক ব্যবসার টাকা সাপ্তাহিক হিসেবে তুলে দিতো এই নেতা। সেই আইসিকে নেতায় মামা বলে ডাকতো। পেশাদার ছিনতাইকারী ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মামা বনে যান। মামাই এখন ফাড়ি এলাকার কিং বলে পরিচিত! পতিতা পল্লীর ৩৪টি অবৈধ মদের দোকানের নিত্য দিনের চাঁদার টাকা তাদের হাত ধরেই বিলি হয় বলে অভিযোগ!
শহরের বিভিন্ন অলি গলিতে সন্ধ্যার পরে ছিনতাই কারীদের দৌড়াত্ব, দূর্গাবাড়ী, আমপট্টি, ট্রাংপট্টি ষ্টেষন রোড সবই এখন হকারদের দখলে, প্রত্যাহ চুরি, ছিনতাই, ভ্যানিটি ব্যাগ কেটে নেওয়া, এগুলো নৈমিত্যিক ব্যাপার, এ ব্যাপারে প্রশাসনের নেই মাথা ব্যাথা। এর থেকে পরিত্রান চায় নগর বাসী। গাঙ্গীনার পাড় ব্যাবসায়ীদের মাথায় হাত - কয়েকজন স্থায়ী ব্যাবসায়ী অভিযোগ করলেন লক্ষ লক্ষ টাকার বিনীযোগ করেছি, অথচ হকারদের জন্য ব্যাবসা বন্ধ। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না?
(এনআরকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬)
