মহম্মদপুর প্রতিনিধি : মাগুরার লোকজ ঐতিহ্যের ধারক নবগঙ্গা নদীর তীরে আবারও বেজে উঠলো তালের ছন্দ আর ছন্দের ঝংকার। গতকাল বুধবার সদর উপজেলার বেরইল-পলিতা ইউনিয়নের দীঘলকান্দি কবি খোলা প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক কবি গানের পালা। আধ্যাত্মিকতা ও লোকজ দর্শনের এই মিলন মেলায় হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।

ঐতিহ্য মেনে স্থানীয় ৫ পাড়া সম্মিলিতভাবে এই বৃহৎ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় গত শনিবার ঐতিহ্যবাহী ‘কুলো’ নামানোর মধ্য দিয়ে। এরপর মঙ্গলবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে কালী পূজা সম্পন্ন হয়। পূজার অনুষঙ্গ হিসেবেই বুধবার বিকেল থেকে শুরু হয় প্রতীক্ষিত কবি গানের আসর, যা গভীর রাত পর্যন্ত দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ মাগুরা ইউনিট ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক গাজী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাক)। কবিয়ালদের লড়াই ও লোকজ বিনোদন এবারের আসরে তাত্ত্বিক ও যুক্তি-তর্কের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন প্রখ্যাত দুই কবিয়াল আশুতোষ সরকার ও নরোত্তম সরকার।

পাল্টাপাল্টি যুক্তি,তাৎক্ষণিক ছন্দ তৈরি এবং সুরেলা কণ্ঠে পৌরাণিক ও সামাজিক প্রসঙ্গের অবতারণা দর্শকদের মোহাচ্ছন্ন করে রাখে। নবগঙ্গার তীরে কনকনে শীত উপেক্ষা করেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ এই কবি পালা উপভোগ করেন।

স্থানীয়রা জানান, আধুনিক বিনোদনের ভিড়েও মাগুরার সদরের দীঘলকান্দির এই কবি গানের আসর আজও তাদের কাছে প্রাণের স্পন্দন। প্রতি বছর এই সময়টির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন এলাকাবাসী।

(বিএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬)