স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলায় তার প্রেমিক আসামি সিয়াম হোসেন ইমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন আসামি সিয়ামকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মতিউর রহমান তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর আসামি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিজের দোষ স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা প্রয়োজন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাজারীবাগের চরকঘাটা এলাকায় বিন্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বাবা বিল্লাল হোসেন মামলা দায়ের করেন। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে সিয়াম আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে একই শ্রেণির ছাত্রী হিসেবে বিন্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সিয়াম বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারে, ভিকটিমের একাধিক প্রেমের সম্পর্ক ও বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি রয়েছে। এ বিষয়ে সিয়াম বিন্তিকে প্রশ্ন করলে সে তা অস্বীকার করে। এসব বিষয়ে ভিকটিমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সন্তুষ্ট না হয়ে সিয়াম তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
ঘটনার দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সে হাজারীবাগে গিয়ে ট্যানারি মোড় থেকে একটি ধারালো চাকু কিনে পকেটে রাখে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রায়েরবাজার স্কুলের সামনে ভিকটিমকে দেখা করার জন্য ডাকে।

দুইজনের দেখা হলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সিয়াম হঠাৎ এক হাতে ভিকটিমকে জাপটে ধরে এবং অন্য হাতে প্যান্টের ডান পকেট থেকে ধারালো চাকু বের করে প্রথমে তার পেটে ও পরে পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করে।

গুরুতর আহত হয়ে শরীর রক্তাক্ত হলে সে ভিকটিমকে ছেড়ে দেয়। ভিকটিম দৌড়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় সিয়াম ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে নিজের জামায় লেগে থাকা রক্ত মুছে ফেলে। পরে সেখান থেকে পালিয়ে বাবা ও চাচার সহায়তায় কাঁঠালবাগানে তার দাদার বাসায় আশ্রয় নেয়।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬)