প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সে‌চের পা‌নি না দেওয়ায় চাষাবাদ কর‌তে পা‌রে‌নি এক কৃষক প‌রিবার। এ ঘটনায় জ‌মির মা‌লিক এরশাদুল হক ইউএনও বরাবর লি‌খিত অ‌ভি‌যোগ দা‌খিল ক‌রে‌ছেন।

অভি‌যোগ উঠে‌ছে, সেচ মা‌লিক ম‌জিবর রহমান ব‌্যক্তি আক্রো‌শের কার‌ণে পানি না দেওয়ায় ওই জমি অনাবাদি পড়ে থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক পরিবার।

অভিযোগে বলা হয়, সেচ মালিক মজিবর রহমানের সঙ্গে এরশাদুল হ‌কের বাবা গোলজার হোসেনের ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে চলতি বোরো মৌসুমে চাষের জন্য প্রস্তুতকৃত জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে ধান রোপণের উপযুক্ত সময় পার হয়ে গেলেও প্রায় এক একর জমি পতিত অবস্থায় পড়ে আছে।

ভুক্তভোগী এরশাদুল হ‌ক ব‌লেন, হা‌তিয়া ইউনিয়‌নের রামরামপুর মৌজায় বাড়ির পেছনে তাদের প্রায় এক একর পৈত্রিক জমি রয়েছে। এর মধ্যে এরশাদুল হকের ৩৪ শতক, বড় বোন গোলাপী বেগমের ২০ শতক, ছোট বোন রিপুনা খাতুনের ৩০ শতক এবং বাবা গোলজার হোসেনের ১৬ শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা ধান ও সবজি আবাদ হয়ে ক‌রে আসছে। প্রতি বছর বোরো মৌসুমে সেচনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে পরিবারটির জীবিকা নির্বাহ হয়। কিন্তু বি‌রো‌ধের কার‌ণে এবার পু‌রো জ‌মি অনাবা‌দি প‌ড়ে র‌য়ে‌ছে।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি সেচ নীতিমালা উপেক্ষা করে নিরীহ কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি শতক ১০০ টাকা বা তারও বেশি হারে অর্থ আদায় করে আস‌ছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে ওই জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরু‌দ্ধে।
এ ছাড়া পানি চাওয়াকে কেন্দ্র করে দয়াল হোসেন নামের জ‌নৈক এক কৃষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া যে স্থানে সেচ যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়েছে তা মজিবর রহমানের নিজস্ব জমি নয়। ভূয়া তথ্য দিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ করে তিনি সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ত‌বে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সেচ মা‌লিক মজিবর রহমান জানান, আমার সমস্যা এবং লোকের অভাবে তাদের জমিতে এবার পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

(পিএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬)