রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : বিএনপি সরকার গঠনের পর সারা দেশে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আসন্ন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা উথোয়াই মং মারমা-কে সদস্য মনোনীত করার জোর দাবি উঠেছে।

উথোয়াই মং মারমার জন্মস্থান চিৎমরমসহ কাপ্তাই উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাধারণ জনগণ এবং দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ এই দাবির পক্ষে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশন শেষেই রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠিত হতে পারে।

দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে চরম প্রতিকূল পরিবেশেও উথোয়াই মং মারমা কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ধরে রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন, নির্ভীক। দলের দুঃসময়ে কারানির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে তিনি কখনো কার্পণ্য করেননি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে একাধিকবার জেল-জুলুম ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবুও তিনি দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ নং আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এবং বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে জয়যুক্ত করতে উথোয়াই মং মারমার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। দিন-রাত সমান তালে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি যেভাবে তৃণমূলকে সংগঠিত করেছেন, তা জেলা ও উপজেলা বিএনপির সকল পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।

পাহাড়ি-বাঙালি ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উথোয়াই মং মারমা কাপ্তাইয়ের পাঁচটি ইউনিয়নের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এক পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ। এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে, কাপ্তাই উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদে যোগ্য প্রতিনিধির অভাবে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে।

স্থানীয় এক প্রবীণ রাজনীতিবিদের মতে, "উথোয়াই মং মারমা একজন সাদামাটা মনের মানুষ ও ক্লিন ইমেজের নেতা। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সততাকে কাজে লাগিয়ে জেলা পরিষদে সদস্য মনোনীত করা হলে কাপ্তাইয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে।"

কাপ্তাইয়ের তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা এখন উথোয়াই মং মারমাকে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা মনে করেন, একজন ত্যাগী ও জনবান্ধব নেতাকে মূল্যায়ন করা হলে তা হবে তৃণমূলের নিঃস্বার্থ বিএনপি দলের কর্মী প্রতি শ্রেষ্ঠ প্রতিদান। এ বিষয়ে তারা বিএনপি সরকার এবং বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের সু-দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

(আরএম/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬)