আবু নাসের হুসাইন, সালথা : ক্ষেতজুড়ে থাকা সাদা ফুল গুলোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে লাখ লাখ টাকার কালো সোনা। আর এই কালো সোনা চাষ করেই বাজিমাত করেছেন মোশারফ হোসেন তালুকদার। সাদা ফুলের মাঝে কালো সোনার চাষ করে এখন বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। 

একজন সফল কৃষি উদ্যেক্তা ও ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন তালুকদার বলেন, আমাদের সালথা উপজেলা পেঁয়াজের জন্য বিখ্যাত। প্রতিবছর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পেঁয়াজের বীজ কিনে চাষ করতে হয়। তাই প্রতি বছরের ন্যায় এবছর পাশ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার কানখড়দি গ্রামে বাৎসরিক চুক্তিতে দুই একর জমি কিনে পেঁয়াজের বীজের চাষ করেছি। বীজের ফুল (কদম) এর গঠন অনেক ভালো আছে। মৌমাছি কম থাকায় হাতদিয়ে প্রতিনিয়ত শ্রমিকরা ফুলের পরাগায়নের কাজ করছে। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে দুই একর জমিতে ১২শো কেজি লাল তীর বীজ উৎপাদন হবে। যার মুল্যে সর্বনিম্নে ৬০ লাখ টাকার মতো।

পেঁয়াজ বীজ চাষে খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, দুই একর জমিতে বীজ উৎপাদণে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হবে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক চাষ হলো এই কালো সোনা খ্যাত পেঁয়াজ বীজ চাষ।

এদিকে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পেঁয়াজের বীজ উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ায় ফরিদপুরে একে ‘কালো সোনা’ বলা হয়। বিগত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে পেঁয়াজ বীজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পেঁয়াজ বীজ চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। আবহাওয়া পেঁয়াজ বীজ চাষের অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ মৌসুমে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে রেকর্ড গড়তে পারে ফরিদপুরে।

(এএন/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬)