দিলীপ চন্দ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর কোতয়ালী থানার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক নারী ইউপি সদস্য ও তাঁর স্বামীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য মোসাঃ তছিরন বাদী হয়ে স্থানীয় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৬-৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে শফির খেয়াঘাট এলাকায় এবং পরে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে মোহন মিয়ার নতুন হাট এলাকায় দুই দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। তছিরন (৪১) নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য।

অভিযোগে বলা হয়, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ-এর কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে কম্বলের স্লিপ চাওয়া এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হামলা চালানো হয়।

ঘটনার সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত আসামিরা তছিরনের স্বামী আবু বক্কর ফকিরের পথরোধ করে গালিগালাজ শুরু করে। বাধা দিলে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এসএস পাইপ ও লোহার রড দিয়ে মাথা ও নাকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে আহতকে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে মোহন মিয়ার নতুন হাট সংলগ্ন এলাকায় পুনরায় তাদের গতিরোধ করা হয়। এ সময় হুকুমদাতার নির্দেশে রাম দা দিয়ে আবু বক্কর ফকিরের মাথায় কোপ দেওয়া হয়, এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে ইউপি সদস্য তছিরনকেও পিটিয়ে আহত করা হয় এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসার জন্য সঙ্গে থাকা ৪৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এজাহারে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিল্লাল খান (৫২), লোকমান খান (৪২), লুৎফর খান (৪৮), আমির উদ্দিন বেপারী (৪৫), নৈমদ্দিন বেপারী (৪২) ও রফিক (৪১)।

আহতরা বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা এখনও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী তছিরন বলেন, “কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে স্লিপ দেওয়া ও পূর্ব শত্রুতার জেরে আমাদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও আমাদের নিরাপত্তা দাবি করছি।”

(ডিসি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬)