রিপন মারমা, কাপ্তাই : রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আসন্ন অন্তর্বর্তীকালীন কাপ্তাই উপজেলা থেকে সদস্য পদে আলোচনায় উঠে এসেছেন এক মানবিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়ন সাপছড়ি তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার এই কৃতী সন্তান তাঁর দীর্ঘ সরকারি কর্মজীবন শেষে বর্তমানে পাহাড়ের মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের সমন্বয়ে তিনি এক অনন্য আস্থার নাম।

১৯৭০ সালে ওয়াগ্গা ইউনিয়নের এক তঞ্চঙ্গ্যা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। তাঁর পিতা মৃত শ্লোকধন তঞ্চঙ্গ্যা এবং মাতা কন্যাবি তঞ্চঙ্গ্যা। ১৯৮৯ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে বস্ত্র অধিদপ্তরে স্টোর কিপার হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ২৭ বছর সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৬ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। সেই দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাই এখন তাঁর সামাজিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের মূল শক্তি।

সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে সফল পদচারণা
অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা বর্তমানে বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থা (বাতকস)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ এবং কাপ্তাই অঞ্চল কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সংস্থাটির সাংগঠনিক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। সমাজ ও ধর্মের কল্যাণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন, ওয়াগ্গা-সাপছড়ি বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি সভাপতি ও ওয়াগ্গা-সাপছড়ি শ্মশান রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন পরিচালনা কমিটি সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের প্রধান শর্ত হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা দীর্ঘদিন ধরে কাপ্তাইয়ের পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বিনয়ী আচরণ ও নির্লোভ মানসিকতা পাহাড়ি এবং বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে তাঁকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তিনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন; বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯নং আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর সাংগঠনিক ও সমন্বয় ক্ষমতা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

কাপ্তাইয়ের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকার তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে তাঁকে জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তী সদস্য হিসেবে মনোনীত করবেন। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যার অন্তর্ভুক্তি কাপ্তাইয়ের সামাজিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়নে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করবে।

(একে/এএস/মার্চ ০১, ২০২৬)