আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বর্তমান সংঘাতকে ‘অনন্তকাল ধরে চলা কোনো যুদ্ধ’ নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তির ‘প্রবেশদ্বার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

একইসঙ্গে ইরান ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকেও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ প্রশস্ত করবে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কাজের প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা একসাথে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এনেছিলাম, যা চারটি আরব দেশের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করেছিল।

এখন ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা আরও অনেকগুলো শান্তি চুক্তি সম্পাদন করতে সক্ষম হব।

সমালোচকদের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়; এটি শান্তির পথ। মানুষ যা বলছে, এটি তার ঠিক উল্টো।

ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং পরমাণু কর্মসূচির ওপর হামলার কারণ ব্যাখ্যা করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জানান, হাতে সময় খুব কম ছিল।
তার দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইরানের এই স্থাপনাগুলো যেকোনো ধরনের হামলার জন্য ‘অভেদ্য’ হয়ে উঠত।

নেতানিয়াহু বলেন, আমরা তাদের পরমাণু ও মিসাইল সাইটগুলোয় আঘাত করার পরও তারা শিক্ষা নেয়নি। তারা কট্টরপন্থী এবং আমেরিকাকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে অনড়। তারা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার এবং নতুন সাইট তৈরি করছিল, যা কয়েক মাসের মধ্যে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যেত।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি এখন ব্যবস্থা নেওয়া না হতো, তবে ভবিষ্যতে আর কখনোই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো না।

ফক্স নিউজ নেতানিয়াহুর এই সাক্ষাৎকার এমন এক সময় প্রকাশ করলো, যখন তার অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। কেননা, নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে সোমবার হামলা চালায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড।

এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, জায়নিস্ট শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং শাসনের বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তর লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ হামলায় খেইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে।

অবশ্য নেতানিয়াহুর কার্যালয় এই দাবিকে নাকচ করেছে। তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্য অনিশ্চিত; ইরানের এমন দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবেও উড়িয়ে দিয়েছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলছে, প্রায় দুই ঘণ্টা আগে রাজধানীতে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠার পর জেরুজালেমে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। সব বিবেচনায় নেতানিয়াহুর কার্যালয় অক্ষত রয়েছে।

(ওএস/এএস/মার্চ ০৩, ২০২৬)