রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : রমজানে সাতক্ষীরায় টিসিবির পণ্য বিতরণকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। ইফতারের ঠিক আগে বা আযানের আগে পণ্য দেওয়ার কারণে ক্রেতারা দ্রুত পণ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ পণ্য নিতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, কিছু ডিলার পণ্য সঠিক সময়ে বিতরণ না করে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর ও কালিগঞ্জের বিভিন্ন টিসিবি ডিলারের দোকানে যেয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে পণ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়রা দাবি করছেন, পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যাতে সুবিধা পেতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।

টিসিবি ট্রাকে সীমিত পরিমাণে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। এক প্যাকেজে পাঁচ ধরনের পণ্য মিলে খরচ হয় ৫৯০ টাকা, যা বাজার মূল্যের তুলনায় কম। এই সাশ্রয়ের জন্য মানুষ রোদ-বৃষ্টির মধ্যে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা জানিয়েছেন, ইফতারের আগে এসে দাঁড়ালেও অনেকেই পণ্য নিতে পারছেন না। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও ফিরে যেতে হয়। পরে কোন কোন ডিলার বেশি দামে বিক্রি করছে।

তারা আরো জানান, শহরেরর অনেক ডিলার টিসিবি পন্য গ্রহীতাদের জন্য নাম্বারসহ কার্ড দিয়েছেন। ওই কার্ডর ফটোকপি ডিলারের কাছে জমা থাকে। যারা মাল নেন না সেগুলোর অধিকাংশ অন্যত্র বিক্রি করা হয়। কিছু মাল না নেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। এছাড়া কালিগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে গ্রাহকদের মাল দেওয়া হয়। তবে এক একজন ডিলারের কাছে স্মার্ট কার্ডির স্ক্যানকপি কম্পিউটার বা ল্যাপটপে সংরক্ষিত থাকে। ওই কপি ব্যবহার করেই মাল নিতে না আসা গ্রাহকদের মাল অন্যত্র বিক্রি করা হয়।

রাশিদা খাতুন নামে একজন নারী বলেন, দুই ঘন্টা দাড়ানোর পর পণ্য না নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েচে। পণ্য কম হওয়ায় সবাই দ্রুত পেতে হুড়োহুড়ি করছে, অনেক সময় আহত হওয়ার ভয়ও থাকে।

মোঃ বায়েজীদ হাসান নামে একজন অভিযোগ করেছেন, একাধিক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে টিসিবি পণ্য পরে কালোবাজারিতে বিক্রি হচ্ছে। ইফতারের আগে পণ্য নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিকাল ৫টার পর পণ্য দেওয়া হলেও অনেক মানুষ তা নিতে পারছে না। বিষয় জেলা প্রশাসক ও এমপিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে টিসিবি ডিলার শেখ সাদিকুর রহমান জানান, অরিজিনাল স্মার্ট কার্ড স্ক্যান না হলে কোন ব্যক্তিকে মাল দেওয়ার কোন সূযোগ নেই। যে কার্ড স্ক্যান হয় না সে মাল জমা রাখা হয়। পরবর্তী মাসে ওই পরিমান মাল ডিলারকে কম দেওয়া হয়। তাছাড়া নির্ধারিত সময়েই মাল দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, এই বিষয়টি জেনেছি। খোঁজ খবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(আরকে/এএস/মার্চ ০৪, ২০২৬)