স্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে নিত্যপণ্যের বাজারে যে অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, সময়ের ব্যবধানে তা অনেকটাই কমে এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এখন সবজি ও ইফতার সামগ্রীর দামে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। লেবু, শসা ও বেগুনের মতো ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি আলু, পেঁয়াজ ও মুরগির দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর কাপ্তান বাজার, কারওয়ান বাজার, রায়সাহেব বাজার, বংশাল কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি রমজানের শুরুর দিকের অতিরিক্ত চাহিদা কিছুটা কমে আসায় বাজারে দামও কমতে শুরু করেছে।

বেশিরভাগ সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে। গত সপ্তাহে একই আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। পেঁয়াজের কেজিও কমে এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় নেমে এসেছে, যা কয়েকদিন আগেও প্রায় ৬০ টাকা ছিল। এছাড়া রসুন ৮০ টাকা ও আদা ১২০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে।

লেবুর বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রোজার শুরুতে যে লেবু হালিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে শসা ও বেগুনের দামেও কমতির প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে ভালো মানের শসা কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা মরিচের দামও আগের তুলনায় কমেছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ২০০ টাকার বেশি ছিল।

মুদি পণ্যের বাজারেও কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। রোজার শুরুতে বাড়তি দামে বিক্রি হওয়া ছোলার দাম এখন কমে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় নেমে এসেছে। খোলা পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৫ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে চিনি ও সয়াবিন তেলের দামে এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি।

চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি মোটা চাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা,মিনিকেট চালের মধ্যে প্রতি কেজি রশিদ ৭২ থেকে ৭৩ টাকা, সাগর ও মঞ্জুর ৮০ থেকে ৮২ টাকা, ডায়মন্ড ৮৫ টাকা এবং মোজাম্মেল চাল ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মুদি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় নতুন করে দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

পোলট্রি বাজারেও স্বস্তি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। বর্তমানে তা কমে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমে এসেছে। সোনালি জাতের মুরগির দামও কিছুটা কমেছে। এখন কেজিপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৩২০ টাকার কাছাকাছি।

গরুর মাংসের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে গরুর মাংস কেজিপ্রতি প্রায় ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।খাসির মাংস ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি ডজন ডিম ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে মাছের বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম আকার ও মানভেদে ভিন্ন ভিন্ন রয়েছে। পাঙ্গাস মাছ কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া প্রায় ২০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি টেংরা ৪৫০ টাকা, বেলে ২৫০ টাকা, বাইন ৬০০ টাকা, চিংড়ি প্রায় ৯০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, কই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, শিং প্রায় ৪০০ টাকা এবং টাকি মাছও প্রায় ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে আসা ক্রেতাদের অনেকে বলছেন, রমজানের শুরুতে যেভাবে হঠাৎ করে দাম বেড়ে গিয়েছিল, এখন সেই তুলনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরো কমার প্রত্যাশা করছেন তারা। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাজার আরো স্থিতিশীল থাকতে পারে।

(ওএস/এএস/মার্চ ০৬, ২০২৬)