গোপালগঞ্জে ৩ সড়ক সংস্কার কাজ নিয়ে নয়-ছয়
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া-রাজৈর, গেড়াখোলা-ব্যাসপুর ও ভাটিয়াপাড়া-মাঝকান্দি সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। প্রায় ১ মাস আগে এসব সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ সড়ক ৩টির সংস্কার কাজের চুক্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে কোটালীপাড়া-রাজৈর সড়ক ৪১ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৩ টাকা, গেড়াখোলা-ব্যাসপুর সড়ক ৩৬ লাখ ২ হাজার ৫৭০ টাকা ও ভাটিয়াপাড়া-মাঝকান্দি সড়ক ৪৯ লাখ ৭৭ হাজার ৪৮৩ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়।
কোটালীপাড়া-রাজৈর সড়ক সংস্কার কাজের কাজে চুক্তি অনুসারে সড়কের ১৫ হাজার ৬৭৫ বর্গ মিটারে ১২ এমএম সিলকোট এবং ১৪.৯৩ কাম বিটুমিন কার্পেটিং অন্তর্ভূক্ত ছিল। এখানে ৯ এমএম সিলকোট ও ১২.৯০ কাম বিটুমিন কার্পেটিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গেড়াখোলা-ব্যাসপুর সড়ক সংস্কারে ১২৩.২২০ কাম বিটুমিন কার্পেটিং ধরা হয়। এ সড়কের কোথাও-কোথাও ১০০.১২০ কাম বিটুমিন কার্পেটিং করা হয়েছে বলে জানাগেছে। এছাড়া ভাটিয়াপাড়া-মাঝকান্দি সড়কে ১৪০.৫৩৩ কাম ওয়্যারিং কোর্স (প্লান্ট মেথড) ছিল। কিন্তু এখানে ১০০ এর কাছাকাছি কাম ওয়্যারিং কোর্স সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব সড়কে দৈর্ঘ্য এবং পুরুত্বে কাজে ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র আরো জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ সড়ক জোন ও সার্কেলের ঘুষের ১০ লক্ষ টাকা আটক ও মামলা সংক্রান্ত খরচ জোগান দিতে এসব কাজে অনিয়ম করা হয়েছে।
ওই সূত্র জানিয়েছে, গত ১৭ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে ঘুষ দিতে ১০ লক্ষ টাকা একটি প্রাইভেট কারে শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন মোশাররফ হোসেন শরীয়তপুর থেকে নিয়ে আসছিলেন। ওই দিন গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইনে চেক পোস্টে ওই গাড়িতে তল্লাশী করে পুলিশ। এসময় ওই গাড়ি থেকে পুলিশ ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করে। টাকার একটি খামে সড়ক জোন ও অপর খামে সড়ক সার্কেল লেখা ছিল। এ ঘটনায় পুলিশ সড়ক জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল হোসেন সহ ৩ জনকে আটক করে। ঘটনার ১৮ দিন পর দুদক সড়ক সার্কেলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল হোসন, পিওন মোশাররফ হোসেন ও প্রাইভেট কার চালককে আসামি করে গোপালগঞ্জের আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। এ মামলা থেকে নিজেদের আড়াল করতে গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওই সড়কের কাজে নয়-ছয় করে অন্তত ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এ সম্পর্কে জনতে চাইলে গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ সাদেকুল ইসলাম ওই ৩ সড়কে অনিয়ম হয়েছে বলে জানতে পারি বলে এ প্রতিবেদকে জানান। পরে ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বলেন, ৫০ লাখ টাকার কম কাজ সড়ক বিভাগ তাদের ক্ষমতায় বাস্তবায়ন করতে পারে। সড়ক সার্কেলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তর সাধারণত এ কাজ তদারকি করে থাকে। এ কাজের সাথে আমাদের দপ্তরের কোন সংশ্লিস্টতা নেই। দুদকের মামলার সাথে সড়ক সংস্কার কাজের কোন সম্পর্ক নেই বলেও এ কর্মকর্তা দাবি করেন।
দুদক গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রামপ্রসাদ মন্ডল বলেন, সড়ক বিভাগের মামলা সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্দোষ কেউ যাতে হয়রাণী না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
(টিবি/এসপি/মার্চ ০৭, ২০২৬)
