শাহ্‌ আলম শাহী, দিনাজপুর : পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেছেন, খাল খনন কর্মসূচি একটি বিপ্লব, যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। খাল খনন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম।দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনর্খনন কর্মসূচির আওতায় ১৬ মার্চ  দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বড়রামপুরে সাহাপাড়া খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে দেশের বাকি ৬৩টি জেলায় সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা একযোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। খাল খননের মাধ্যমে মানুষের জীবন-জীবিকার আমূল পরিবর্তন হবে।

আজ রবিবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় খাল পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে কর্মীদের প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন করে মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। তিনি এ কর্মসূচিকে বিপ্লবে রূপ দিয়েছিলেন। দীর্ঘকাল খনন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার, জনবান্ধব সরকার, জনকল্যাণে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন থেকে কাজ শুরু করেছে। কৃষি কাজে সেচের ব্যবস্থা করা, মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি, পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য সরকার খাল খননকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন,দিনাজপুরসহ সারাদেশে খাল খননের পাশাপাশি খালের উভয়পাশে বৃক্ষ রোপণসহ সৌন্দর্য বর্ধন করা হবে। এজন্য ইতোমধ্যে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে ১৮০ দিনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। খাল খননের দৃশ্যমান কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে।

‎এসময় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনকল্যাণে কাজ করেছে। আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কি. মি. খাল-পুকুর-জলাশয় খনন-পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিয়েছে, আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ১৫ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন এবং ১৬ মার্চ দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে উদ্বোধন করবেন খাল খনন কর্মসূচি। এই উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে দেশব্যাপী শুরু হবে খাল খনন কর্মসূচি।
এই বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। মানুষের মাঝে এই কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ বলেন, এই খাল খনন করা হলে ৬ হাজার বিঘা জমিতে সেচ সুবিধা পাবে।
অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন হবে। কৃষক ও দেশ উপকৃত হবে।'

এ সময় দিনাজপুর- ১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, রংপুর রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, এসপি জেদান আল মুসা দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক হোসেনসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(এসএস/এসপি/মার্চ ০৮, ২০২৬)