সড়কের গাছ কাটতে নিতে হবে অনুমতি
স্টাফ রিপোর্টার : শহর, জেলা ও উপজেলায় সড়কে থাকা গাছ কাটার জন্য আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটির নিকট থেকে অনুমতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের রিটের রায় পূর্ণবিবেচনার রায় প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ে আদালত, ঢাকা মেট্রোপলিটন সিটির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। কমিটিতে পরিবেশবাদী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক থাকবেন।
গাছ কাটার অনুমতি নেওয়ার জন্য প্রত্যেক জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, ফরেস্ট অফিসার, পরিবেশবিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা সিভিল সার্জনকে নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।
উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটার অনুমতি নেওয়ার জন্য ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা এবং এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী থাকবেন।
সোমবার (৯ মার্চ) আবেদনকারী পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, সারাদেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পরিবেশ দূষণ বন্ধ করে মানুষের জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ ২০২৪ সালে একটি রিট দায়ের করে। রিটে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহর ও উপজেলায় সড়কের গাছ কাটার জন্য নির্দিষ্ট একটি কমিটি গঠন এবং কমিটির কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়। প্রাথমিক শুনানি শেষে একইসালে ৭ মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন।
আদালত রায়ে বলেন, দিন দিন তাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিক সংখ্যক গাছ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। ব্যাপকভাবে গাছ কর্তন করা হলে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে, যা আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারকে খর্ব করবে। আদালত আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য যে পরিমাণ গাছ বাংলাদেশে থাকা দরকার তা নেই এবং গাছগুলোকে রক্ষা করা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
আদালত রায়ে গাছ কাটার অনুমতির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে কমিটি গঠন এবং জেলা, উপজেলা পর্যায়ের কমিটি পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে গঠনের নির্দেশ দেন। আদালত একই সাথে সরকারি প্রজেক্টের গাছকে রায়ের বহির্ভূত রাখেন এবং আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। কিন্তু সরকারি প্রজেক্টের গাছ রায়ে বহির্ভূত রাখার বিষয়টি মূল রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় একটি রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই রুল জারি করেন।
ওই রুলের শুনানি শেষে গত ১৫ জানুয়ারি রিভিউয়ের ওপর রায় দেন হাইকোর্ট।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্যই গাছ কাটার নিয়ন্ত্রণের বিষয় নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হতে অনুমতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রিট পিটিশনের উৎপত্তি হয়েছিল সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটা নিয়ে এবং সেটাও আদালত বন্ধ করে দিয়েছেন। এমতাবস্থায় সরকারি প্রজেক্টের গাছ কাটা যদি রায়ের বহির্ভূত রাখা হয় তবে রিট পিটিশনের মূল উদ্দেশ্যই অকার্যকর হয়ে যাবে। অপরদিকে রায়ের ফাইন্ডিংসে বিভিন্ন স্থানে কমিটি করার নির্দেশনা থাকলেও রায়ের মূল অংশে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। যার কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় এবং জেলা, উপজেলা পর্যায়ে কোন কমিটি গঠন করা হয়নি। সে কারণে উক্ত রায়ের মূল অংশে ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলায় আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা এবং সরকারি প্রজেক্টের গাছ রায়ের বহির্ভূত করার নির্দেশনা রায় থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।
আদালত রায়ে রিভিউ আবেদনের প্রার্থনা মঞ্জুর করেছেন জানিয়ে মনজিল মোরসেদ বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন সিটির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি যেখানে পরিবেশবাদী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর থাকবেন।
গাছ কাটার অনুমতি নেওয়ার জন্য প্রত্যেক জেলা লেভেলে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, ফরেস্ট অফিসার, পরিবেশবিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা সিভিল সার্জনকে নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।
উপজেলা লেভেলে গাছ কাটার অনুমতি নেওয়ার জন্য ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা এবং এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী থাকবে।
আদালত রায়ে সরকারি প্রজেক্টের গাছ রায়ের বহির্ভূত করার নির্দেশনা রায় থেকে বাদ দিয়েছেন এবং রায়টি চলমান রেখে আগামী ৬ মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
(ওএস/এএস/মার্চ ০৯, ২০২৬)
