অমর ডি কস্তা, নাটোর : ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরেও স্থানীয় বিএনপি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রামের তুখোড় বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবু। বর্তমানে তার নাম স্মরণ করা হয় শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবু হিসেবে। কারণ ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশ্য দিবালোকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ছিলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বনপাড়া পৌর বিএনপি’র সভাপতি। স্থানীয় বিএনপি রাজনীতির ধ্রুব তারা খ্যাত তরুণ ও তুখোড় এই জনপ্রিয় নেতাকে হত্যার পর বনপাড়াতে ছুটে আসেন তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি অকালে হত্যাকাণ্ডের শিকার বিএনপির তরুণ নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নূর কচি ও তাদের অবুঝ ৩ শিশু সন্তানদের সাথে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান। এ সময় বেগম জিয়া সাদা শাড়ি পরিহিতা মহুয়া নূর কচিকে বলেছিলেন, তোমার এই দুঃসময়ে আমি ও আমার দল পাশে আছে। ভবিষ্যতে দলের সময় সুযোগ এলে তোমার কথা সবার আগে চিন্তা করবো।

এরপর থেকে বিএনপির নানা সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন মহুয়া নূর কচি। তিনি জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। সামনেই বিএনপি সরকারের দলীয় তালিকা থেকে ৩৫ জন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মনোনীত করা হবে। এই তালিকায় নাটোর-নওগাঁ সংরক্ষিত এই নারী আসনে মোট ৫ জন নারী নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন, মহুয়া নূর কচি, সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, সাবেক এমপি সুফিয়া হক, আইনুন নাহার ও সানজিদা ইয়াসমিন তুলি। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সম্ভাবনা রয়েছে এমন নামের তালিকার শুরুতেই শোনা যাচ্ছে শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নূর কচির নাম। কারণ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে স্বয়ং বেগম খালেদা জিয়ার সরাসরি প্রতিশ্রুতি ছিলো সুসময় এলে মহুয়া নূর কচি ও তার ৩ মেয়ের জন্য তিনি ও তার দল পাশে থাকবে। যার ফলে স্থানীয় বিএনপি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণ বিশ্বাস করেন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মায়ের প্রতিশ্রুতির প্রতি নিশ্চয়ই সম্মান দেখাবেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মহুয়া নূর কচি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে কখনও কোন ভয়ে পিছপা হননি। বরং তিনি সাহসিকতার সাথে বিএনপি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। যদিও মাঝখানে দীর্ঘ বছর তিনি অসুস্থতার কারণে হুইল চেয়ারের মাধ্যমে চলাচল করেছেন। রাজনীতিতে অদ্যম এই নারী নেত্রীকে দয়া নয় বরং তার যোগ্যতার মাপকাঠিতে মাপলেও মনোনয়ন যুদ্ধে এগিয়ে থাকবেন বলেন বিশ্বাস পোষণ করেন তার অনুসারীরা।

বিএনপি নেত্রী মহুয়া নূর কচি শিক্ষা জীবনে গ্রাজুয়েশন করলেও তিনি কোন চাকরীর পেশা বেছে নেননি। রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি পিতৃহীন ৩ মেয়েকে লেখাপড়া ও তাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক দায়িত্বশীল মায়ের ভূমিকাও পালন করে এসেছেন। স্বামী শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবুর পৈতৃক সুত্রে পাওয়া একটি পুকুর ও সামান্য কৃষি জমি থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই কোনমতে তিনি ৩ মেয়েকে নিয়ে জীবন যাপন করে আসছেন।

বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য মহুয়া নূর কচি জানান, আমার বিশ্বাস দেশনেত্রী ও মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে আমাকে ডেকে নিতেন ঢাকায়। আমার ৩ মেয়ে, রাজনৈতিক অবস্থা ও আমার ব্যক্তিগত সার্বিক অবস্থার খোঁজ খবর নিতেন। তবে এখনও বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ খবর নিয়মিতই নেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি’র জনপ্রিয় নেতা হওয়ায় আমার স্বামী শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবুকে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। তিনি বেঁচে থাকা অবস্থায় যেভাবে মেয়র অতঃপর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ঠিক তারই ধারাবাহিকতায় এবং মহান আল্লাহ সদয় হলে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নাটোর-৪ আসনের এমপি হতেন। দলের জন্য আমার স্বামী বাবুর অবদান সকলেই অকাতরে স্বীকার করেন তার জন্য আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।

মহুয়া নুর কচি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমার স্বামীর রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তা, গত ১৫ বছরে ৩ মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন পার করা ও প্রতিকুল পরিবেশে বিএনপির রাজনীতিতে ভূমিকা রাখা সহ সার্বিক অবস্থান বিচার বিশ্লেষণ করলে নিশ্চয়ই আমাদের দলের মাননীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার প্রতি মানবিক হবেন। আমার নেতৃত্ব ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চয়ই তিনি করবেন।

জেলা বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মীদের ভাষ্য মতে, নাটোর জেলায় একজন হুইপ পেয়েছেন, একজন প্রতিমন্ত্রী পেয়েছেন, এবার মহুয়া নূর কচি সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হলে এই জেলার আপামর জনতা পূর্ণাঙ্গ একটি উন্নয়ন প্লাটফর্ম পাবে। যা বিএনপির রাজনৈতিক ধারা আরও সমুন্নত হবে এবং জেলাবাসীর স্বপ্ন পূরণ হবে।

(এডিকে/এসপি/মার্চ ০৯, ২০২৬)