রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া শহরের থানা মোড়ে ক্রেতা সেজে একটি সংঘবদ্ধ চোরের দল একটি জুয়েলারি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, রুপা ও নগদ টাকা চুরি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন মহিলার স্বর্ণ চুরির সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে দুই নারী চোর। এ সময় দলের অপর একজন মহিলা চোর কৌশলে পালিয়ে গেছে। পরে আটক দু'জন মহিলা চোরকে লোহাগড়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে। 

ভুক্তভোগী থানা মোড়ের সজল জুয়েলার্সের মালিক শান্তি স্বর্ণকার (৬০) জানান, তিনি লোহাগড়া থানা মোড়ের উত্তর পাশে অবস্থিত 'সজল জুয়েলার্স' দোকানের মালিক এবং প্রায় ৩৫ বছর ধরে স্বর্ণ ব্যবসা করে আসছেন।

আজ সোমবার সকাল সকালের দিকে তিনি দোকান খুলে স্বর্ণালংকারসহ একটি ব্যাগ তার বসার চেয়ারের ওপর রাখেন।

এসময় অজ্ঞাত পরিচয়ের ৩ জন নারী ও ২ জন পুরুষ ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে দু'জন তাকে মেঝেতে টাকা পড়ে থাকার কথা বলে বিভ্রান্ত করলে তিনি নিচে তাকান। সেই সুযোগে মুহূর্তের মধ্যে তারা স্বর্ণভর্তি ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে তিনি দেখতে পান ব্যাগটি আর নেই। ওই ব্যাগে আনুমানিক ৩৫ ভরি স্বর্ণ, প্রায় ১০০ ভরি রুপা এবং নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিল বলে তিনি জানান। ঘটনার পরপরই তিনি আশপাশে খোঁজাখুঁজি করলেও তাদের আর সন্ধান পাননি।

এদিকে একই কৌশলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এক নারীর গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয় জনতা দুই নারীকে হাতেনাতে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয় জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের খোকন মিয়ার স্ত্রী হাবিবা আক্তার (২৪) একই এলাকার আনোয়ার আলীর মেয়ে মরিয়ম খানম (৩০)। এ সময় চোর দলের অপর সদস্য হাসিনা বেগম (৩৪) কৌশলে পালিয়ে গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই নারী একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা চুরিসহ অন্যান্য অপরাধের জড়িত। এ ঘটনায় শান্তি স্বর্ণকার লোহাগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লোহাগড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(আরএম/এসপি/মার্চ ০৯, ২০২৬)