ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনা- ৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারের বহিষ্কার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি। সোমবার শহরের পাবনা রোডে বিএনপির প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু।

সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের কাছে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের পরাজয়ের জন্য সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদারকে দায়ী করে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে মকলেছুর রহমান বাবলু বলেন, নিজে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে পর্দার আড়ালে থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে জাকারিয়া পিন্টুকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। এ সময় তিনি হামলা, মামলা, জেল-জুলুমসহ নানা নির্যাতনের শিকার হন। অথচ একই সময়ে সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার তৎকালীন আওয়ামী লীগের এমপি ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সঙ্গে আঁতাত করে তাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন এবং লাখ টাকার আতশবাজি ফুটিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া তিনি ইপিজেড, রেলওয়েসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত ছিলেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন না বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সিরাজুল ইসলাম সরদার বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলকে বিজয়ী করতে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করান এবং তার নিজ বাড়ির ভোটকেন্দ্র বাঘইল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ শাসনামলে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই এমপি নুরুজ্জামান বিশ্বাস ও গালিবুর রহমান শরীফের সঙ্গে বৈঠক ও সমঝোতার বিভিন্ন ছবি প্রমাণ হিসেবে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন নেতারা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অবিলম্বে সিরাজুল ইসলাম সরদারকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন, বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু, ছাত্রদল নেতা ইমরুল কায়েস সুমনসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

(এসকেকে/এসপি/মার্চ ১০, ২০২৬)