সোনাতলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার সামগ্রী বিক্রি, প্রশাসনের নজরদারির দাবি
বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও অস্থায়ী দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের পাম তেলে খাবার ভাজা এবং অবিক্রীত ইফতার সামগ্রী পরদিন পুনরায় গরম করে বিক্রির অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন বিকেলে বিপুল পরিমাণে বেগুনি, পিয়াজু, বুন্দিয়া, ছোলা, আলুর চপসহ নানা ধরনের ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত করা হয়। তবে এসব খাবার তৈরিতে নিম্নমানের পাম তেল ব্যবহার এবং একই তেল বারবার ব্যবহার করার কারণে খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অনেক অস্থায়ী দোকানে খোলা আকাশের নিচে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ধুলাবালি খাবারের ওপর পড়ছে এবং মাছি বসছে অবাধে।
অনেক ক্রেতার দাবি, একদিনের অবিক্রীত ইফতার সামগ্রী পরদিন আবার গরম করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সোনাতলা বাজার, বালুয়াহাট, সৈয়দ আহম্মদ কলেজ এলাকা, হরিখালি ও পাকুল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বেশি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ক্রেতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা জানান, ইফতার কিনে বাড়িতে নিয়ে গেলে অনেক সময় খাবারের স্বাদ ও গন্ধে বাসি মনে হয়। অনেক ক্ষেত্রে খাবার তেলচিটচিটে এবং অতিরিক্ত কালচে রঙের দেখা যায়।
স্বাস্থ্যসচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই তেল ব্যবহার করলে তা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর বাসি বা নিম্নমানের খাবার গ্রহণ করলে ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা। জনস্বার্থে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
(বিএস/এসপি/মার্চ ১২, ২০২৬)
