টেন্ডার ছাড়াই সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গাছ কাটার অভিযোগ
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সরকারি কোন দরপত্র আহবান ছাড়াই সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেনীর এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এদিকে দায় এড়াতে তিন সদস্য বিশিস্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তবে এটি নিছক দোষ এড়ানোর কৌশল এবং শিক্ষক ও কর্মচারী নাটকিয়তা বলছে স্থানীয়রা। তাদের দাবী ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে এমন কাজ করার সাহস পেয়েছে ওই কর্মচারী। অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম রেজাউল ইসলাম। তিনি শহরের লাবসা এলাকার বাসিন্দা ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সাইকেল গ্যারেজে পাহারাদার হিসাবে কর্মরত।
গত মঙ্গলবার ও বুধবার সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সামনে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হোস্টেলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের মধ্যে হায়দার আলী, গাছকাটার সময় আমরা বাসায় ছিলাম না। গাছ পড়ে থাকার পরে জানতে চাইলে রেজাউল আমাদের বলে গাছ কাটার জন্য শিক্ষকদের অনুমতি আছে। রেজাউল একটি শিশু গাছ, মেহগনি গাছ ও কাঁঠাল গাছ কেটে নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি। গাছগুলোর দাম আনুমানিক অর্ধ লক্ষ টাকার মত হবে।
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নকর্মী জেসমিন আরা খাতুন জানান, গত মঙ্গলবার ও বুধবার স্কুলের সাইকেল সেটের গার্ড রেজাউল ইসলাম হঠাৎ গাছ কাটতে শুরু করে। ওই সময় তিনি জানতে চাইলে রেজাউল বলে গাছ কাটার ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ অনান্য শিক্ষকদের অনুমতি আছে।
বিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি কাজিবুল ইসলাম জানান, গাছ কাটার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাদের বলেন গাছ কাটার বিষয়টি তদন্ত করতে। তাই আমরা ঘটনাস্থলে এসে দেখি গাছ কাটা হয়েছে কিনা। এরপর দেখলাম তিনটা গাছ কাটা হয়েছে।
শিক্ষক আলী হোসেন জানান, সকালে প্রধান শিক্ষক জানান হোষ্টেল গাছ কাটা হয়েছে, এজন্য তিনি একটা ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটা তদন্ত কমিটি করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। আমরা এখানে এসে দেখি একটা গাছ গোড়া থেকে তুলে ফেলা হয়েছে বাকি দুইটি কাটা হয়েছে।
এদিকে গাছ কাটার দায় স্বীকার করে অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম জানান, আমি নিজের ইচ্ছা্য় গাছ কেটেছি তবে এটা সবাই জানে। এটা আমার ভুল হয়েছে বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়েরে প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকু জানান, বর্তমানে স্কুলে ঈদের ছুটি চলছে এর মধ্যে আমরা গত কাল জানতে পারি যে হোষ্টেল থেকে তিনটা গাছ কাটা হয়েছে। এরপর সাথে সাথে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সহ তিনজনকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। এছাড়া আমরা তদন্ত কমিটি ও গাছ কাটার ব্যাপরে কি পদক্ষেপ নিচ্ছি সেটা জেলা প্রশাসককে অবগত করেছি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার জানান,গতকাল বুধবার সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছিলেন কে বা কারা প্রতিষ্ঠনের গাছ কেটে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কেউ যদি জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
(আরকে/এসপি/মার্চ ১২, ২০২৬)
