মিষ্টি কড়া ত্রিশ ছড়া
আবদুল হামিদ মাহবুব
০১.
অভ্যুত্থানের শহীদ যারা
ডাক দিয়েছে কবর হতে
গাদ্দারদের তাড়িয়ে দিতে
নামতে আবার রাজপথে।
০২.
লুঙ্গি নিচে হান্দাইয়া
ইউনুচ্চারে কান্দাইয়া
সব করেছে খলিলে
ভুল হবে কি বলিলে?
০৩.
সিনাটা টান করে গলা তার উচিঁয়ে
ঝটপট কথা বলে বেশ ভালো গুছিয়ে
তার বলা কথাতে পাকায় তো তালগোল
দেশবাসী হতাশায়, 'হ্যাঁ' 'না' পুরো ভুল!?
০৪.
লুঙ্গি নিচে ঘাপটি মেরে তুমিও ছিলে জাহিদুর
উল্টাপাল্টা তাল মিলাতে সকল গানে দিতে সুর
তোমার কত বকবকানি শুনছে লোকে সন্ধ্যা-ভোর
ধান্দা তোমার হাসিল হলো, সাধুবেশি দুষ্ট চোর!
০৫.
সেন্টমার্টিন দেয়নি বুবু দিয়েছে ইউনূস নির্বাচন
নির্বাচিত তাদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে করছে নাচন।
যেই তারেকের ফেরার পথ রুদ্ধ করে রেখে দাও!
সেই তারেক-ই গদির মালিক বুবু এসে দেখে যাও।
০৬.
সমঝোতা করে নিলে হবে না তো চাঁদা
বাঙালি বোকারাম সব জনই গাধা!
এইবেলা রাস্তায় যত হবে ছিনতাই
এটা হবে চাঁদাবাজি নাচো নাচো ধিন তাই!
০৭.
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ যাচ্ছি শহীদ মিনারে
কিন্তু আমি সারা বছর যাইনা মিনার কিনারে
আগের মত রাত্রি জেগে ফুলের তোড়া বানাই না
কেনা ফুলে শ্রদ্ধা জানাই, হৃদয় থেকে জানাই না!
০৮.
জুলাই যখন মানছো না হুমকিধামকি মানিনা
বাঁচবো নাকি মরে যাব সেটাও আর জানিনা;
অভ্যুত্থানের বাকি যেটুক, সেটুক সারা করতে
ঝাঁকে ঝাঁকে নামবো পথে, গুলি খেয়ে মরতে।
০৯.
হাজী সেলিম সবাই চিনেন সে যে খাঁটি ঢাকাইয়া
সংসদেতে বলতো কথা বুবুর দিকে তাকাইয়া
ইচ্ছে মতো লুট করেছে চোখদুটোরে পাকাইয়া
বুবুর পাতে তুইল্যা দিচে নিজের হাতে মাখাইয়া।
১০.
ছড়াকার একজন লিখেছিল জিংজং
আমি বলি মিল দে লেখ বেটা পিংপং
বদরুল মামা এসে বলে লেখ ডিংঢঙ
শফিকের চতুরতায় ফিরে এলো লিংপং!
১১.
খেলায় আমি ভালো ছিলাম হাসু সেটা বুঝতো
সকল কিছুর বয়ান দিতে বিদেশ ফিরেই খুঁজতো
ইউনূস ছিল দুষ্টু পাজি একা একাই খেলে গেল
সাইডে রেখে একলা খেলায় ঠিক সে বদলা পেল!
১২.
তুমি ব্যাটা মাস্টারমাইন্ড কেমনে কি করলে;
পটরপটর কথা বলে গ্যাড়াকলে পড়লে?
আবার সব ঝালাই কর কাজ রয়েছে বাকি
এটা তোমার জানা আছে, বাকির নামই ফাঁকি!
১৩.
ভালো হতে পয়সা কোনো খরচা করা লাগে না
ভালো হবার ইচ্ছা তবু মনের মাঝে জাগে না?
পবিত্র হও তওবা করো আলোর দিকে চাও
খোদার নামে বলছি মাসুদ ভালো হয়ে যাও!
১৪.
চপ্পু কাকা, সবাই জানে হাসু বুবুর পা'য় ধরে
চেয়ারখানা পেয়েছিলেন জানি বান্দা হায়দরে।
দিছেন ভালো সেলামীটা রাখবো মনে সেইটা
আবার পা'য়ে ধরে দেখুন যায় কি রাখা এইটা।
১৫.
চেয়ে দেখো দুই চোখ আগুনের গোলা
মিশনটা সফলে লেগে আছে পোলা
নেরেটিভ বলবার পথ আজো খোলা
দিন যদি ঘুরে যায়, ছেলে পাবে মুলা?
১৬.
গুলি ছোড়া প্রশ্নবানে করতে দেখি বিব্রত
মিশন এক কাঁধে নিয়ে পোলা টা-তো রত
যুক্তি দিয়ে বুঝালেও খুঁড়ে আনে ক্ষত
লক্ষ্য পানে যেতেই হবে ওটাই তার ব্রত!
১৭.
একাডেমির ডিজি উনি নামটা আজম
চেহারায় মনে হয় কথা সে বলে কম
অভ্যাসে রেগুলার গাঞ্জায় মারে দম
পায়জামা খুলে ফেলো, পাবে না শরম!
১৮.
পালায় তারা ভিতু যারা সাহসীরা দাঁড়িয়ে যায়
সাহসীদের বীর কাহিনি পরিসীমা ছাড়িয়ে যায়
মারণাস্ত্র ছুঁড়লে ওরা পাল্টা মেরে বিকল করে
যুদ্ধ কোন নয় সমাধান, দুই পক্ষই আসো সরে।
১৯.
যাক সব ভেসে যাক আকাঙ্ক্ষা আদর্শ
নীতি সব ঝেড়ে ফেলে শুধু করি হার্ষ
দেশ আজ বড় নয়! বড় এই বই যে
বই নিয়ে নাচি গাই মশগুল রই যে।
২০.
বিনয়ীর ভাব নিয়ে অনুনয় করেছে
অপরাধ ক্ষমা চেয়ে হাত চেপে ধরেছে
মহাপ্রাণ মহাজন ক্ষমা করে তারা তো
একে ক্ষমা করলে, কাজ হবে সারা তো!
২১.
দেশটা তো আমাদের, আমরাই ধর্ষক
এইভাবে ঘটে যায় থাকি হয়ে দর্শক!
আয়নায় চেয়ে দেখি; আছি কি মানুষ?
মানুষের চেহারায় আসলে অমানুষ।
২২.
শিয়া আর সুন্নি বিভেদে জড়িয়ে
যুদ্ধে তাল দাও আকিদা সরিয়ে!
লাভ দিলে কার ঘরে? জানো কি?
শয়তান জয়ী হয়। মানো কি?
২৩.
চটর পটর না করে গো মুখ রাখলে বন্ধ
জানতনা তো মনের খবর ছড়াত না গন্ধ
এখন দেখো গ্যাঁড়াকলে কেমন গেছো পড়ে
উলটপালট শুনছো কথা বাইরে এবং ঘরে!
২৪.
রঙ্গভরা বঙ্গদেশে একজনই তো ভালো রে
সেজন ছাড়া চারিপাশের সকলজনই কালো রে
কালো কালো আঁধার জমে নিভিয়ে দিছে আলো রে
আমিই আলো নিয়ে এলাম চারিপাশে জ্বালো রে!
২৫.
কেউ করে না চাঁদাবাজি?এখন হল সমঝোতা
চাঁদাবাজি বলছে যারা, বলছে ওসব অযথা।
রিসিট দিয়ে নিচ্ছে টাকা, গাড়ি প্রতি অল্প কিছু
চাঁদাবাজি বলে তোরা, লেগে গেছো তারও পিছু!
২৬.
সমঝোতায় ভাড়া নিলে কম-বেশি বোঝা যাবে?
পারমিট বাতিলের ছুতো কোনো খুঁজে পাবে?
আজকাল সমঝোতায় সব কাজ হয়ে যায়
আম এই জনতায় বার বার ধোঁকা খায়!
২৭.
ভাঙ্গা এই ভবনের কি দারুন শক্তি
আজও যায় মানুষেরা জানাতে ভক্তি
এ ভবন স্মৃতিময়,জনকের সে স্মৃতি
স্মৃতি থাকে অন্তরে, ঘটে না তার ইতি?
২৮.
হইনি আজও হুঁশহারা, পুরোই আছে হুঁস
ভাঙাভাঙি শিখতে হলো, এটা আমার দোষ?
ভাঙার কোনো ডাক আসলে হাতুড়ি নিয়ে ছুটি
দেখছো সবে ভেঙ্গে দিলাম, ওই যে হাসুর খুঁটি!
২৯.
মানবতায় জাগছে সুবোধ,সে তো বসে রয় না
এতো এতো মিসাইল ফাটাও আর সহ্য হয় না
বিবেকগুলো জাগ্রত হোক, ডাক পাঠালো বিশ্বময়
যুদ্ধে কেবল মানুষ মরে, পৃথিবীটা নিঃস্ব হয়!
৩০.
শত্রুও তো বলবে না আমি মেডেল নিয়েছি
যাকে যাকে পছন্দ হয় তাকে তাকেই দিয়েছি
কিন্তু খুব শখ তো ছিল একটা মেডেল পরবো
নিজে নিজেই পরছি মেডেল কি আর বল করব!
