বিকেএসপির সাবেক উপপরিচালক ও সংগঠক মিমুর চিরবিদায়
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : চিরবিদায় নিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট,বিকেএসপির সাবেক উপপরিচালক ও সংগঠক শামীমা সাত্তার মিমু। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টায় ঢাকাস্থ মিরপুরে নিজ বাসভবনে মারা গেছেন তিনি।
আজ শনিবার বাদ জোহর দিনাজপুর ঈদগাহ আবাসিক এলাকার মাঠে নামাজে জানাজা তাঁকে দিনাজপুরের শেখ ফরিদ কবর স্থানে পিতার কবরের পাশে দাফন করা হবে।
জানাজা ও দাফন কার্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দিনাজপুর- ১ আসনের এমপি মনজুরুল ইসলামসহ অসংখ্য গুণিজন, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট, বিকেএসপির সাবেক প্রশিক্ষক ও সংগঠক শামীমা সাত্তার মিমু মৃত্যুকালে স্বামী, এক পুত্র ও দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়-শুভাকাংখি ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে ক্রীড়াঙ্গনে প্রমীলা অ্যাথলেটের মধ্যে অন্যতম সফল নামটি ছিল শামীমা সাত্তার মিমু। বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে রেখে গেছেন অনন্য সাফল্য। সাবেক এ অ্যাথলেট ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট, বিকেএসপির সাবেক প্রশিক্ষক ও সংগঠক। ৬৬ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মিমু।
মৃত্যুর আগে রেখে যান বেশ সফলতম একটি ক্যারিয়ার। জাতীয় অ্যাথলেট শামীমা সাত্তার মিমুর স্প্রিন্ট, হার্ডলস, হাইজাম্প, লংজাম্প সবখানেই সক্রিয় ছিলেন। তবে হাইজাম্প ইভেন্টে হয়ে উঠেছিলেন বেশ জনপ্রিয়। জাতীয় পর্যায়ের এই ইভেন্টের লড়াইয়ে টানা ষোলোবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য এক রেকর্ড ছিল এ সাবেক অ্যাথলেটের। ৯২ সালে দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অ্যাথলেটিক্সের লড়াই থেকে বিদায় নেন মিমু। এরপর বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ করপোরেশনের (বিটিএমসি) অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিয়ে ৯৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কোচ ছিলেন তিনি। ২০০২ সালে বিকেএসপির উপপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর বিকেএসপি থেকে অবসরে যান।
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে ক্রীড়াঙ্গনে প্রমীলা অ্যাথলেট হিসেবে মিমু ছিলেন সবার পরিচিত নাম। স্বাধীনতার পরপর ৭৩ সালে ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডে জাতীয় পর্যায়ের লড়াইয়ে আগমন ঘটেছিল মিমুর। একই বছর দিনাজপুর জেলাতে অনুষ্ঠিত জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার, লংজাম্প এবং ট্রিপল জ্যাম্পে তিনি প্রথম হন। এরপর দিনাজপুর জেলা একাদশের পক্ষে জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে অংশগ্রহণ করার জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়। ৭৩ সালে কেবল ১৩ বছর বয়সে নিজ জন্মস্থান দিনাজপুর জেলা একাদশের পক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ক্ষুদে অ্যাথলেট হিসেবে অনশগ্রহন করেন মিমু।
প্রসঙ্গত, প্রয়াত শামীমা সাত্তার মিমু প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার খালাতো বোন।
(এসএস/এসপি/মার্চ ১৪, ২০২৬)
