কাঁচামাটিয়া নদীর কচুরিপানা এখন মশা উৎপাদনের অভয়াশ্রম
নীল আইচ, ঈশ্বরগঞ্জ : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নাব্যতা হারানো কাঁচামাটিয়া নদী এখন কচুরিপানায় ভরে গিয়ে মশা উৎপাদনের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসকের কাছে বারবার আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
নদী পাড়ের বাসিন্দা শামছুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, কাঁচামাটিয়া নদীটি উপজেলার উচাখিলা, তারুন্দিয়া, বড়হিত, ঈশ্বরগঞ্জ, সোহাগী ও জাটিয়া এই ছয়টি ইউনিয়নের বুক চিরে প্রবাহিত। সত্তরের দশকে নদীটিতে ছিল বিশাল জলরাশি এবং মৎস্য সম্পদে ছিল ভরপুর। সে সময় জীবিকা নির্বাহের জন্য এই নদী ছিল এ অঞ্চলের মানুষের আশীর্বাদ স্বরূপ। কিন্তু কালের আবর্তে এবং মানবসৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতা, দখল ও দূষণের কারণে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
তিনি আরও বলেন, নদীটি যখন বহমান ছিল তখন প্রবল স্রোতের কারণে বিভিন্ন স্থানে গভীর জলাধারের সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে সেই স্থানগুলোতে জন্মেছে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা, যা পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ ব্রিজ থেকে পশ্চিমে থানা পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার নদীজুড়ে কচুরিপানার স্তূপ জমে আছে। নদীর উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বসবাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার না করায় নদীটি এখন মশা উৎপাদনের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে।
নদীর পাড়ের আরেক বাসিন্দা ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই নদীর মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তারা। সন্ধ্যা নামলেই মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করে। তিনি বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে শহরের পাকা রাস্তার পাশে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধনের ধোঁয়া ছড়ানো হয়। কিন্তু যেখানে মশার মূল উৎপত্তিস্থল, সেই নদী পাড়ে কখনো মশা নিরোধক ওষুধ ছিটানো বা ফগার মেশিন ব্যবহার করা হয় না।
ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত কাঁচামাটিয়া নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করে মশামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, নদীর কচুরিপানা পরিষ্কারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান জানান, কাঁচা মাটিয়া নদীর জঞ্জাল কচুরিপানা অপসারণের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। অবিলম্বে স্থানীয় বাসিন্দারা দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখতে পাবে এবং মশার উপদ্রবের হাত থেকে রেহাই পাবে বলে আশা করছি।
(এন/এসপি/মার্চ ১৫, ২০২৬)
