# ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের কাজে ধীরগতি। ৩ বছরে প্রকল্পের কাজ করেছে মাত্র ৫০%। ১ বছর প্রকল্প মেয়াদ বৃদ্ধিতে বাকি ৫০% নিম্নমানের কাজ হওয়ার শঙ্কা।

# এলেঙ্গা ফ্লাইওভার নির্মাণে দৃশ্যমান ধীরগতি।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : নাড়ীর টানে ঈদে ঘরে ফিরবেন উত্তর বঙ্গের ২৪ জেলার মানুষ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঢাকা- টাঙ্গাইল -যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান। এই সাড়ে ১৩ কি.মি. মহাসড়কে যানজটের শেষ নেই। রাজধানীর সঙ্গে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম এই মহাসড়কটি। ঘরে ফেরা উত্তর বঙ্গের মানুষের সমস্ত আনন্দ ম্লান হয়ে যায় এই সাড়ে ১৩ কি.মি মহাসড়কে। দীর্ঘ যানজট আর ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে করতে ঈদে ঘরে ফেরার আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়।
ঈদের সময় হঠাৎ বিকল ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণেও মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রতিবছর ঈদে এ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন, যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এবারও ঈদযাত্রায় পরিবহন চালক ও যাত্রীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহসড়কের এলেঙ্গা অংশে যানজটের আশঙ্কা করছেন।

তবে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের ৬৫ কিলোমিটার জুড়ে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের ঈদযাত্রা স্বাচ্ছন্দ্য করতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। এবারের ঈদে মহাসড়ককে চারটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। আর এতে মোতায়েন থাকবে এক হাজার পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও মহাসড়কে কাজ করবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র হতে জানা যায়, সাসেক-২ প্রকল্প আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়কের উন্নীতকরণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড। কাজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬০০ কোটি টাকা। ২০২২ সালের মার্চ মাসে কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও গত ৩ বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫০%। এ কারণে পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ ১ বছর বাড়ানোর প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ফাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ চলমান। সার্ভিস লেনসহ মহাসড়কের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, মহাসড়কের এলেঙ্গার থেকে সেতু পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ চলছে। এলেঙ্গায় চলছে ফ্লাইওভারের কাজ। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাসের কাজও চলমান। ঈদের আগে তড়িঘড়ি করে এসব স্থানে দায়সারা কাজ করে ঈদ সময়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের বাসচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‌‘এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের কাজ চলমান থাকায় দুপাশের রাস্তা চেপে গেছে। এ কারণে গাড়ি ওভারটেক করতে পারে না। মহাসড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় এবারের ঈদ যাত্রায় চরম ভোগান্তিতে পরতে হবে।’

আরেক বাসচালক জগলু বলেন, 'এলেঙ্গার পর থেকে চার লেনের সুবিধা না পেলে যানজট থেকে মুক্তি মিলবে না। বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা এই ১৩ কি.মি সিঙ্গেল লেনে চলাচল করছি। এই ভোগান্তির শেষ নাই। এবারও মহাসড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কা আছে।’

নওগাঁ জেলার বাসযাত্রী নিহাল বলেন, সারা বছর কাজের জন্য ঢাকায় থাকি। ঈদ এলে যখন বাড়ি ফিরি তখনই তীব্র যানজটে পড়তে হয়।মহাসড়কের বড় একটা অংশের কাজ শেষ হলো কিন্তু এই ১৩ কি.মি এর ভোগান্তি শেষ হলো না। ঠিকাদারের গাফলতির কারনে এই ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না। বিগত দিনে দেখেছি, যানজট নিরসনে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশর সদস্যরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন কিন্তু কোন লাভ হয় না। যানজট নিরসনে মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।’

কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আসন্ন ঈদযাত্রায় মহাসড়কের দুই পাশেই চার লেনে যানবাহন চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু দিয়ে সার্বক্ষণিক টোল চালু রাখার চেষ্টা করা হবে। এবার সেতুর দুই প্রান্তে মোটরসাইকেলের জন্য ২ টি বুথসহ মোট ৯টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হবে। এই ৯ টি বুথের গাড়ী যখন সেতুর দুই লেনে উঠতে যায় তখনই কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, যেসব জায়গায় সমস্যা হতে পারে, সেগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। মহাসড়কে তিনটি শিফটে ২৪ ঘণ্টাই পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের পাঁচদিন আগে এবং পরেও সাতদিন পুলিশ কাজ করবে। জেলা পুলিশের সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ সমন্বয় করে কাজ করবে।

(এসএম/এসপি/মার্চ ১৬, ২০২৬)