নির্মাণাধীন ড্রেনের কারণে সোনাতলায় ধসে পড়ল দুই দোকান
বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ড্রেনের কাজের ধীরগতি ও হঠাৎ বৃষ্টির পানির স্রোতে একটি কনফেকশনারি ও একটি ফার্মেসি দোকান ধসে পড়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে ড্রেন নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার ধারে ও দোকানের সামনে খনন কাজ শুরু করেন। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে খনন করা স্থানের মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। গত রোববার রাতে বৃষ্টির পানির প্রবল স্রোতে সেই অংশ ধসে পড়ে এবং পাশের দুটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত লিজা কনফেকশনারির মালিক আবু সুফিয়ান বিটুল জানান, রাত প্রায় ১০টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে তিনি দোকান বন্ধ করে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে দোকানের ছাদ ধসে পড়ে এবং দোকানের মালামাল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানির স্রোতে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ভেসে ও ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে পাশের মামুন ফার্মেসি দোকানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দোকানটি ভেঙে পড়ায় বেশ কিছু ঔষধ বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে এবং কিছু দামী ঔষধ পানির স্রোতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনাতলা পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবু শাহীন বলেন, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের টেন্ডারের মাধ্যমে ড্রেন নির্মাণ কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনকে ট্রেডার্স বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোঃ খাইরুল ইসলাম খোকন তালুকদার কাজ শুরু করেছিলেন। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে দুটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনকে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ খাইরুল ইসলাম খোকন তালুকদার বলেন, তিনি ঘটনাস্থল গিয়েছিলেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের সঙ্গে কথাও বলেছেন তাদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সোনাতলা পৌরসভার প্রশাসক শাহানাজ পারভীন বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঠিকাদার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। কাজের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একই দিনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহানাজ পারভীনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রির দায়ে দুই দোকানিকে মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মিজানুর রহমান। তিনি জানান, দোকানগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া যাওয়ায় তাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জবাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
(বিএস/এসপি/মার্চ ১৬, ২০২৬)
