চারা পেঁয়াজে আগাম ফুল, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, নগরকান্দা : ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় চারা পেঁয়াজের মাঠজুড়ে অস্বাভাবিকভাবে সাদা ফুল বা কদম ফুল দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এতে করে ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
জানা গেছে, এ বছর নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। উপজেলার পুরাপাড়া, বনগ্রাম, কাজুলী, চারযশোরদি ও বল্লভদীসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে পেঁয়াজ গাছে ব্যাপকভাবে ফুল দেখা গেছে।
মেহেদিয়া গ্রামের কৃষক জাকির মোল্লা বলেন, “এ বছর পেঁয়াজের গাছে অস্বাভাবিকভাবে ফুল চলে এসেছে। এর আগে কখনও এমন পরিস্থিতি দেখিনি। গাছে ফুল আসায় কন্দ বড় হয়নি, ফলে পেঁয়াজের উৎপাদন অনেক কমে যাবে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এখনো কোনো পরামর্শ পাইনি।”
একই গ্রামের আরেক কৃষক রহিম শেখ বলেন, “আমরা অনেক আশা নিয়ে পেঁয়াজের আবাদ করেছি। কিন্তু গাছে ফুল আসায় পুরো ক্ষেত নষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা। এই পেঁয়াজ মাচায় রেখে সংরক্ষণ করা যাবে না, উঠানোর পরপরই বিক্রি করতে হবে। এতে আমাদের বড় ক্ষতি হবে।”
বনগ্রামের কৃষক রুহুল মুন্সী জানান, “পেঁয়াজে ফুল আসলে কন্দ শক্ত হয় না, বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যায় না। আমরা বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করবো। এতে খরচই উঠবে না।”
কাজুলী এলাকার কৃষক সুমন মোল্লা বলেন, “যদি আগে থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতাম, তাহলে হয়তো এই ক্ষতি হতো না। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়া দরকার।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ফুল হওয়া পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। ফলে দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় বাজারে চাপ বাড়তে পারে এবং দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন,
“অনেক কৃষক নির্ধারিত সময়ের আগেই চারা রোপণ করেছেন। সময়ের আগে রোপণ এবং আবহাওয়ার প্রভাবে গাছে ফুল এসেছে। কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
কৃষকরা বলছেন, সময়মতো প্রশিক্ষণ ও সঠিক পরামর্শ পেলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো। ভবিষ্যতে এমন ক্ষতি রোধে কৃষি বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
(পিবি/এএস/মার্চ ১৭, ২০২৬)
