স্পোর্টস ডেস্ক : আফ্রিকান নেশন্স কাপের বহুল আলোচিত ফাইনালের ফল দুই মাস পর পাল্টে দিয়েছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ)। প্রথমে জয়ী ঘোষিত হওয়া সেনেগালের কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিএএফ জানায়, ওই ম্যাচে সেনেগাল দল মাঠ ত্যাগ করেছিল, যা ‘ম্যাচ বর্জন’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফলে ফলাফল ৩-০ ব্যবধানে মরক্কোর পক্ষে নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ১৮ জানুয়ারি মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে পাপ গেয়ির গোলে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল সেনেগাল।

তবে ম্যাচের শেষ দিকে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। যোগ করা সময়ে ইদ্রিসা গেয়ির হেড পোস্টে লেগে ফেরত এলে ইসমাইল সার বল জালে পাঠালেও তার আগে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি।
সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এরপর ম্যাচের একেবারে শেষভাগে কর্নার থেকে আসা বলে বক্সে পড়ে যান মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াস। ভিএআরের সহায়তায় ঘটনাটি পুনরায় দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। তবে সিদ্ধান্ত জানানোর সময় সাইডলাইনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

এরই মধ্যে সেনেগাল কোচ পাপ চাও তার খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। প্রায় ১৭ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর তারা আবার মাঠে ফিরলেও ম্যাচের পরিবেশ স্বাভাবিক ছিল না। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন দিয়াস।

এরপর ম্যাচের ৯৪তম মিনিটে গেয়ির পাস থেকে গোল করে সেনেগালের জয় নিশ্চিত করেছিলেন পাপ গেয়ি। তবে সেই গোল আর ইতিহাসে ‘জয়সূচক’ হিসেবে থাকছে না।

ম্যাচের ঘটনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন। সেই আপিলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সিএএফ।

ফলে ১৯৭৬ সালের পর প্রথমবারের মতো আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা জিতল মরক্কো, যা তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয়। অন্যদিকে, দ্বিতীয়বার ট্রফি জয়ের স্বাদ পেলেও তা ধরে রাখতে পারল না সেনেগাল। ২০২১ সালে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

(ওএস/এএস/মার্চ ১৮, ২০২৬)