রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় রিতা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পা শিকল দিয়ে বাঁধা ছিল-যা নিয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা। 

আজ সোমবার সকালে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের এড়েন্দা গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী।

লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিতা বেগম নামে ওই গৃহবধূর মানসিক অসুস্থতা রয়েছে এমন সন্দেহে বেশ কিছুদিন ধরে তাকে আলাদা একটি ঘরে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো।

এরপরে সোমবার ভোর রাতে পরিবারের লোকজন ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় রিতার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে লোহাগড়া থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এসময় তার পা শিকলে বাঁধা অবস্থায় ছিল।

এদিকে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রিতা বেগম সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। মানসিক ভারসাম্যহীন দেখিয়ে তাকে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় রাখা হতো।

এ বিষয়ে নিহত রিতার স্বামী রবিউলের নামে লোহাগড়া থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) থাকায় তিনি পলাতক রয়েছে। যে কারণে রবিউলের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(আরএম/এসপি/মার্চ ২৩, ২০২৬)