রাজন্য রুহানি, জামালপুর : জামালপুরের ইসলামপুরে চাঁদা না দেওয়ায় পৌর কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর ও নারীকে লাঞ্ছনার অভিযোগে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী। মামলায় বিএনপি ও ছাত্রদলের তিন নেতাসহ ৭ জন এবং  ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন- ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. হাসমত, পৌর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. হাসান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহম্বায়ক আলী নূর ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী মো. সোয়াদ, সাবেক যুবদলনেতা রোকনুজ্জামান রুকন ও মো. নুরুজ্জামান।

জানা গেছে, ইসলামপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পলবান্ধা উজানপাড়ার বাসিন্দা সামিউল হক ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের সাথে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে বিরোধ চলছিল। বিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা নাজমা বেগমের স্বামী কাউন্সিলর সামিউল হকের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে অভিযুক্ত বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালায়।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তার ভাতিজার স্ত্রী মনিরা বেগমকে মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তার গলায় থাকা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। নাজমা বেগমের ননদ শরিফা বেগমকেও মারধর করে আহত করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকায় মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং চাঁদা না পেয়ে এক ঠিকাদারকে মারধরের মতো ঘটনাতেও জড়িত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অভিযোগকারী সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

ইসলামপুর থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম গাজী জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(আরআর/এসপি/মার্চ ২৪, ২০২৬)