গৃহবধূকে চুরির বদনাম দিয়ে নির্য়াতনের পর হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচারের অভিযোগ
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : তামান্না তাছনিন জ্যোতি (২৩) নামে এক গৃহবধূকে টাকা চুরির বদনাম দিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশের গলায় ওড়না জড়িয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকালে সাতক্ষীরার তালা সদর ইউনিয়নের বারুইহাটি গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
জ্যোতি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ঘোনা গ্রামের শফিকুল মোড়লের মেয়ে এবং বারুইহাটি গ্রামের আশরাফুল সরদারের স্ত্রী। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাড়ে চার বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
নিহতের ভাই জোবায়ের আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, “মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তার ভগ্নিপতির ভাই তাকে মোবাইল ফোনে জ্যোতির মৃত্যুর খবর জানায়। তারা দ্রুত সেখানে যেয়ে জ্যোতিকে খাটের উপর শোয়ানে অবস্থায় দেখতে পান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে টিস্যু দিয়ে রক্ত মুছে ফেলার চিহ্ন ছিল। সেই রক্তমাখা টিস্যুগুলো রান্নাঘরের পাশে পাওয়া যায়। বোনকে হত্যা করে পরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পার্শ্ববর্তী বাড়ির হালিমার ব্যাগ থেকে ৪০০ টাকা চুরির বদনাম দিয়ে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন জ্যোতিকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।
অন্যদিকে, স্বামী আশরাফুলের ভাই রাজ্জাক সরদার বলেন, “মঙ্গলবার দুপুরে আশরাফুল ও তার স্ত্রী তাদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে আসে। খাওয়া শেষে তার স্ত্রী হালিমার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা খোঁয়া যায়। পরে জ্যোতির কাছে সেই টাকা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আশরাফুল তাকে চড়-থাপ্পড় দেয়। পরে বিষয়টি মিটিয়ে দিয়ে তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি মনে করেন এই ঘটনার জেরে ক্ষোভ থেকে জ্যোতি রাতে আত্মহত্যা করেছে।”
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
(আরকে/এসপি/মার্চ ২৫, ২০২৬)
