ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিলের অ্যাট-লার্জ পদে প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান রেদোয়ান চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে মন্টগোমারি কাউন্টিতে বসবাসকারী এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নিজেকে একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক, কমিউনিটি নেতা ও জনসেবক হিসেবে তুলে ধরেছেন। আসন্ন জুন মাসের এ নির্বাচনে বিজয়ী হলে মেরিল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবামূলক কাজে সহায়তা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।  

২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি, বেসরকারি ও অলাভজনক খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে রেদোয়ান চৌধুরীর। তার প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতি সরকারি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিকল্পিত ও দায়িত্বশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

পেশাগত জীবনে চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হিসেবে তিনি বহু-মিলিয়ন ডলারের বাজেট পরিচালনা করেছেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক সংস্কার কার্যক্রম নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে সেবা প্রদানের সময় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে এবং স্টেকহোল্ডার সন্তুষ্টি বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

এর আগে ফ্রেডি ম্যাক, সিটিগ্রুপ এবং ব্যাংক অফ আমেরিকা-এর মতো প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে তিনি ৫.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক পোর্টফোলিও তদারকি করেছেন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে তিনি ইস্ট কাউন্টি সিটিজেনস অ্যাডভাইজরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ভূমি ব্যবহার, অবকাঠামো ও উন্নয়ন নীতিতে পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি মেরিল্যান্ড কম্পট্রোলারের ফেইথ অ্যাডভাইজরি বোর্ড এবং ফেয়ারল্যান্ড–ব্রিগস চ্যানি মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন কমিটিতেও কাজ করছেন।
অলাভজনক খাতেও সক্রিয় রেদোয়ান চৌধুরী। তিনি ইউডিওন ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, যা দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতে কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন বোর্ড ও জনপরামর্শক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা জোরদার করেছেন।

তার নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা-এর কাছ থেকে প্রেসিডেনশিয়াল লাইফটাইম সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি। একজন প্রথম প্রজন্মের অভিবাসী হিসেবে রেদওয়ান চৌধুরী মনে করেন, মন্টগোমারি কাউন্টির বৈচিত্র্যই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি সাশ্রয়ী জীবনযাপন, মানসম্মত শিক্ষা, জননিরাপত্তা, দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, 'সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং বাস্তব ফলাফল দিতে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।'

(আইএ/এসপি/মার্চ ২৬, ২০২৬)