গণতন্ত্র, গণজীবন ও গণআস্থা: কোন পথে বাংলাদেশ?
মীর আব্দুর আলীম
একটি রাষ্ট্রকে বোঝার জন্য কখনো বড় কোনো তত্ত্বের প্রয়োজন হয় না- প্রয়োজন হয় ঘটনাগুলোর ধারাবাহিক পাঠ। কোথাও একটি দুর্ঘটনা, কোথাও একটি রাজনৈতিক বক্তব্য, কোথাও একটি সামাজিক অন্যায় এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোই একত্রে গড়ে তোলে জাতীয় বাস্তবতার পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংবাদধারা আমাদের সামনে এমনই এক বহুমাত্রিক চিত্র হাজির করছে, যেখানে উন্নয়ন ও অনিশ্চয়তা পাশাপাশি অবস্থান করছে। এখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দৃশ্যমান, কিন্তু একইসাথে নাগরিক নিরাপত্তার দুর্বলতাও স্পষ্ট। এই দ্বৈত বাস্তবতাই আজকের বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য নতুন সড়ক, সেতু, রেললাইন এবং আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। কিন্তু এই উন্নয়নের গুণগত দিক নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, যখন প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার খবর শিরোনামে উঠে আসে। ট্রেন দুর্ঘটনা কিংবা মহাসড়কে প্রাণহানির ঘটনা প্রমাণ করে যে উন্নয়ন এখনো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। সিগন্যালিং ব্যবস্থার দুর্বলতা, যানবাহনের ফিটনেসহীনতা, চালকদের অপ্রশিক্ষণ এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। ফলে অবকাঠামোর বিস্তার ঘটলেও নিরাপত্তা যেন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতা একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়: উন্নয়ন কি কেবল দৃশ্যমান অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ, নাকি এর সঙ্গে নিরাপত্তা ও মানবজীবনের মূল্যও সমানভাবে যুক্ত? যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়, তাহলে আমাদের উন্নয়ন ধারণাকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ভাষ্য, বাস্তবতার নির্মমতা! রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নারায়ণগঞ্জে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একটি বাড়ি কুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি একটি ভয়ংকর বার্তা যেখানে অপরাধী চক্রের দুঃসাহস রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করে। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, চাঁদাবাজি ও সংগঠিত অপরাধ এখনো অনেক এলাকায় প্রভাবশালী। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এমন ঘটনার পর উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রশাসন সক্রিয় হয়—এটি যেমন দ্রুত প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ, তেমনি এটি একটি কাঠামোগত দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়। প্রশ্ন হলো, কেন একটি সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে? কেন স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্বতঃস্ফূর্তভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে না? আইনশৃঙ্খলা কেবল ঘটনাপরবর্তী ব্যবস্থা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক প্রক্রিয়া। যখন সেই প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন অপরাধীরা সাহস পায়, আর সাধারণ মানুষ হারায় আস্থা। এই আস্থাহীনতাই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় সংকটে পরিণত হতে পারে।
অর্থনৈতিক সূচকগুলো অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, অবকাঠামো বিনিয়োগ, শিল্পখাতের সম্প্রসারণ। কিন্তু একইসাথে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন জীবনকে সংকুচিত করছে। ফলে উন্নয়নের সুফল তারা প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করতে পারছে না। এই বৈপরীত্য অর্থনীতির একটি মৌলিক সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে যেখানে সামষ্টিক উন্নয়ন ব্যক্তিগত কল্যাণে রূপান্তরিত হতে ব্যর্থ হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে।
সমাজে আয়ের বৈষম্য এখন কেবল পরিসংখ্যানগত কোনো বিষয় নয়, বরং এটি এক রূঢ় ও দৃশ্যমান বাস্তবতা। একদিকে যখন উচ্চবিত্ত শ্রেণির অঢেল সম্পদের প্রদর্শনী আর সীমাহীন ভোগবিলাসের মহোৎসব চলে, অন্যদিকে তখন নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিনিয়ত জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই তীব্র অর্থনৈতিক বৈপরীত্য সমাজের গভীরে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী বিভাজন রেখা টেনে দিচ্ছে। এই বৈষম্য কেবল পকেটের দূরত্ব নয়; এটি সামাজিক মর্যাদা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যখন সমাজের একটি বিশাল অংশ নিজেদের ক্রমাগত বঞ্চিত ও অবহেলিত মনে করে, তখন তাদের মধ্যে তীব্র হতাশা, হীনম্মন্যতা এবং পুঞ্জীভূত ক্ষোভের জন্ম নেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে। এই সংকট উত্তরণে কেবল প্রবৃদ্ধি অর্জন যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন মডেল। যেখানে অর্থনৈতিক সুফল কেবল গুটিকয়েক মানুষের হাতে কুক্ষিগত না থেকে সমাজের প্রান্তিক স্তর পর্যন্ত সমানভাবে পৌঁছাবে এবং প্রতিটি মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গণমাধ্যম কেবল সংবাদ বা তথ্যের বাহক হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; এটি জনমত গঠন এবং রাষ্ট্র ও সমাজের গতিপথ নির্ধারণের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আধুনিক বিশ্বে একই ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উপস্থাপন এটাই প্রমাণ করে যে, তথ্য এখন একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং কৌশলগত ক্ষেত্র। তথ্যের এই প্রাচুর্যের ভিড়ে প্রকৃত সত্য খুঁজে বের করা যেমন কঠিন, তেমনি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। সাংবাদিকতা যখন স্বার্থান্বেষী মহলের হাতিয়ারে পরিণত হয় বা কাটতি বাড়াতে চটকদার শিরোনামে সত্যকে আড়াল করে, তখন সমাজে চরম বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। একটি আংশিক বা বিকৃত তথ্য পুরো দেশের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণই হওয়া উচিত সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি, যাতে নাগরিকরা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নিজস্ব মতামত গঠন করতে পারে।
রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়শই বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ ও বড় বড় মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সেগুলোর বাস্তবায়নের চিত্র অত্যন্ত নাজুক ও দুর্বল। অনেক সময় চমৎকার সব নীতিনির্ধারণী পরিকল্পনা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে অথবা ধীরগতির কারণে তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে সময়মতো পৌঁছায় না। এই অকার্যকর অবস্থার মূলে রয়েছে প্রশাসনের সর্বস্তরে জবাবদিহিতার প্রচণ্ড অভাব এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বহীনতা। যখন কোনো কাজের জন্য কাউকে দায়বদ্ধ করা হয় না, তখন সেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। ফলে সরকারের নীতিনির্ধারণী উচ্চাশা আর মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে একটি বিশাল ব্যবধান বা ফাঁক তৈরি হয়। এই সংকট দূর করতে হলে কেবল পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, বরং প্রতিটি স্তরে কঠোর তদারকি, স্বচ্ছতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করা জরুরি।
দেশের টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে নাগরিক আচরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক; এটি যেমন উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে, তেমনি নেতিবাচক আচরণ প্রতিবন্ধক হিসেবেও কাজ করতে পারে। একটি রাষ্ট্র তখনই আধুনিক ও উন্নত হয়ে ওঠে যখন তার নাগরিকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম অমান্য করার প্রবণতা, যত্রতত্র ময়লা ফেলা, ট্রাফিক আইন না মানা এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের মতো অসচেতনতা চোখে পড়ে। নাগরিকদের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ রাষ্ট্রের বড় বড় অর্জনকেও ম্লান করে দেয়। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে একটি জাতিকে সভ্য বলা যায় না; তার জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের মজ্জাগত সংস্কার ও উন্নত আচরণ। তাই শিক্ষার প্রসার এবং প্রচারণার মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতা জাগ্রত করা অপরিহার্য, যাতে তারা উন্নয়নের বাধা না হয়ে সঙ্গী হতে পারেন।
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশ আর কোনো বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বড় দেশগুলোর মধ্যকার যুদ্ধবিগ্রহ বা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির মতো অস্থিরতাগুলো সরাসরি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। এই পরিবর্তনশীল ও চ্যালেঞ্জিং বাস্তবতায় দেশের স্বার্থ রক্ষা করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গতানুগতিক পররাষ্ট্রনীতির বাইরে গিয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণ ও দূরদর্শী কূটনৈতিক দক্ষতা প্রদর্শন করা রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করার মাধ্যমেই কেবল আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা থেকে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
বর্তমান সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় যে মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জটি দেখা দিয়েছে, তা হলো সর্বজনীন আস্থার সংকট। সাধারণ নাগরিক ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক ধরনের অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় ঐক্য ও সামগ্রিক উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করছে। যখন মানুষ বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন বা নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তখন তারা রাষ্ট্র বিনির্মাণে নিজেদের অংশীদার মনে করতে পারে না। এই আস্থার সংকট সমাজকে মানসিকভাবে বিভক্ত করে দেয় এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করে। এই সংকট নিরসন করে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে কথার চেয়ে কাজের প্রতিফলন বেশি জরুরি। এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি সরকারি কর্মকাণ্ডে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণ করা যেখানে সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। জনগণের অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থাই পারে এই আস্থার দেয়াল ভেঙে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন করতে।
বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা একটি জটিল সময়ের প্রতিচ্ছবি যেখানে উন্নয়ন ও সংকট পাশাপাশি অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আমাদের সামনে যে চিত্র তুলে ধরে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি একটি কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ রাজনৈতিক সংলাপ, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নাগরিক সচেতনতার সমন্বয়। কারণ একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামোতে নয়, বরং তার মানুষের নিরাপত্তা, আস্থা এবং ন্যায়বোধে নিহিত। সেই ভিত্তিকে শক্তিশালী করাই এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।
লেখক: সাংবাদিক, সমাজ গবেষক, মহাসচিব-কলামিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।
