স্বৈরাচার কি শেখ হাসিনা না সন্ত্রাসী ইরান সরকার?
শিতাংশু গুহ
দ্রৌপদী’র সন্মান রক্ষায় মহাভারতের যুদ্ধ হয়েছিলো। হেলেন-র জন্যে ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়েছিলো। শুধুমাত্র অষ্টাদশী মালেকা আজিজি’র জন্যে ইরান ধ্বংস ধ্বংস হওয়া দরকার। মাশা আমিনীর প্রসঙ্গ নাই বা টানলাম। আমার এই পোষ্টে একজন লিখলেন, আপনি মুসলিম বিরোধী। আর একজন লিখলেন, কিছু মানুষ আছে যারা চায় মুসলিম রাষ্ট্রগুলো গাজায় পরিণত হোক। গাজার প্রসঙ্গ প্রথম এলো, হামাস ৭ই অক্টবর ২০২৩ রাতের আঁধারে ইসরাইলে এক জলসায় আক্রমণ করে হাজার খানেক ইহুদিকে নির্মমভাবে হত্যা করে, এবং প্রায় ৫শ’ জনকে অপহন করে নিয়ে যায়। ইসরাইল গাঁজা আক্রমন করে, হামাস এখন নিখোঁজ, গাজা হাতছাড়া হয়ে গেছে। এখানে দোষ কি ইসরাইলের না হামাসের? ইসরাইল বা যেকোন রাষ্ট্রই কি তা করতো না?
পাকিস্তান যত মুসলমান হত্যা করেছে, কোন রাষ্ট্র বা অমুসলমানরা তত মুসলমান হত্যা করেনি। বাংলাদেশে প্রায়শ: কোরান অবমাননার জন্যে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করা হয়, অনেক হিন্দু ছেলেমেয়ে এখন জেলে। অথচ বাংলাদেশের হিন্দু কোরান অবমাননা করেনা, নবীর অপমান করেনা, মুসলমানরাই একাজ করে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চালাতে। যেমন কুমিল্লায় ইকবাল হনুমানের কোলে কোরান রেখেছিলো। ১৮টি জেলায় বাড়ীঘর পুড়েছে হিন্দুর, ৩জন নিহত হয়েছে। ভালুকায় ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ দিপু চন্দ্র দাশকে ইসলাম অবমাননার অজুহাতে পিটিয়ে মেরে আগুন জ্বলিয়ে দেয়া হলো, জনতা ‘আল্লাহুআকবার’ রব দিয়ে উল্লাস করছিলো, অথচ বেচারা ইসলাম অবমাননা করেনি। এনিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ হয়েছে, মুসলমানদের তেমন প্রতিবাদ দেখিনি!
ইরাক যুদ্ধের সময় আমি মিডিয়ায় অনবরত লিখেছি। তখনও লিখেছিলাম ইরাক শেষ, তখনও কিছু মানুষ আমাকে ‘মুসলিম বিরোধী’ আখ্যা দিয়েছিলো। ইরাক কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আসলে এই লোকগুলো ভাবে ‘আবাবিল পাখি’ এসে আমেরিকাকে ধ্বংস করে দেবে। এঁরা ডিগ্রিধারী, দু’জনকে আমি চিনি, ভদ্র, ক্লিনশেভ, আমেরিকায় থেকেও ইরানকে জেতানোর জন্যে মরিয়া, এঁরা এযুগে বাস করে, মানসিকতা ১৪শ’ সাল আগের। বাংলাদেশের মিডিয়ায় দেখবেন ইরান এযুদ্ধে জয়ী হয়ে গেছে, হোয়াইট হাউস মোল্লাদের দখলে, নেত্তনাহু’র জন্যে ফাঁসির দড়ি রেডি। এদের আপনি কি বলবেন? অথচ এ যুদ্ধে আমেরিকার ৭জন সৈন্য মারা গেছে, ইসরাইলের ২জন, ইরানের সংখ্যাটি কত? ইরান ফাইট দিচ্ছে, এটুকুই যথেষ্ট। আমেরিকা একই পুরো পৃথিবী বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। ইসরাইল একাই ইরানের জন্যে যথেষ্ট। কিন্তু কে শুনে কার কথা?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যে এপ্রিলে চীন যাচ্ছেন, যুদ্ধ এরআগে শেষ হতে হবে, পাকিস্তানে আলোচনা চলছে, মানলে ভাল, নইলে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ধ্বংস করে দেবেন। ইরান জনগণের ভাল চাইলে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে যাওয়া উচিত। হুতি ইসরাইলে আক্রমন করলেও কিচ্ছু আসে-যায়না, ভুল গেলে চলবে না, ইসরাইল একাই ৭টি আরব দেশের সাথে যুদ্ধ করে জিতেছে। তখন প্রায় সকল আরব দেশ ইসরাইলের বিপক্ষে ছিলো, এখন প্রায় সবাই ইরানের বিপক্ষে। সৌদি আরব ও আরব-আমিরাত ইরানকে ধ্বংস করার আহবান জানিয়ে রেখেছে। ইরান ইসরাইলের শত্রু, মধ্যপ্রাচ্যের অনেকগুলো মুসলিম দেশের শত্রু, মানবতার শত্রু। ইরান নির্বিকারভাবে এর জনগণকে হত্যা করছে, অথচ বাংলাদেশিরা সন্ত্রাসী ইরানী সরকারের পক্ষে, এরাই আবার শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। স্বৈরাচার কি শেখ হাসিনা না সন্ত্রাসী ইরান সরকার?
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।
