রাতে মন্ত্রিসভা বৈঠক, অনলাইনে ক্লাস ও জ্বালানি চ্যালেঞ্জ থাকছে আলোচনায়
স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ৯টায় বসছে মন্ত্রিসভা বৈঠক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠক থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এছাড়াও বৈঠকে আলোচ্যসূচির বাইরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সব মহানগরীর স্কুলের ক্লাস অনলাইন ও অফলাইনে দুই মাধ্যমেই নেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
সে মোতাবেক আজ রাতের মন্ত্রিসভা বৈঠকেই মেট্রোপলিটন অঞ্চলগুলোতে অনলাইন ও অফলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বৈঠক থেকে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত জানানো হতে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহও মোটামুটি স্বাভাবিক। তবে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনায় ও অসাধু ব্যক্তিরা তেলের অবৈধ মজুত গড়ে তোলায় কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে।
তারা বলছেন, আগামী দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে বড় ধরনের সংকট এড়াতে সার্বিক বিষয়গুলো বিবেচনা করে সরকারি অফিস পরিচালনাসহ অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার।
গত মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী জানান, তারা আলোচনা করছেন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোকে উৎসাহিত করার। যেহেতু বিশ্বব্যাপী সংকট (জ্বালানি সংকট), তার মানে বাংলাদেশও। তারা কেউ জানেন না, কতদিন এই সংকট চলবে। সে কারণে তারা দেশের স্কুলব্যবস্থাকে অনলাইন ও সশরীর—এই মিশ্র পদ্ধতিতে আনার কথা ভাবছেন।
রমজান উপলক্ষে ছুটি ও বিভিন্ন আন্দোলন মিলিয়ে নির্ধারিত কিছু ক্লাস হয়নি। এজন্য এখন শনিবারের ছুটি বাতিল করে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালু করা হয়েছে (পরবর্তী ১০টি শনিবার এটি চলবে)।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে তারা জরিপ করে দেখেছেন, ৫৫ শতাংশ অংশীজন চাচ্ছেন অনলাইনে যাওয়ার জন্য। কিন্ত পুরোপুরি অনলাইনে গেলে বিষয়টি অসামাজিক হয়ে যাবে কি না, সেটাও ভাবা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব দেওয়া হবে। সেখানে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তবে তারা এটা (অনলাইন ও সশরীর ক্লাস) চিন্তা করছেন।
সপ্তাহের ছয় দিন অনলাইন ও অফলাইনে ক্লাসের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি জানাননি শিক্ষামন্ত্রী। তবে তিনি জানান, তারা মিশ্র পদ্ধতি করতে চাচ্ছেন। তারা মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব দেবেন, কিন্তু মন্ত্রিসভা যেটা গ্রহণ করবে, সেটাই হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে তারা মহানগরীর কথা বলছেন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
(ওএস/এএস/এপ্রিল ০২, ২০২৬)
