ঠাকুরগাঁওয়ে হাম-রুবেলায় আক্রান্ত চার শিশু, বাড়ছে উদ্বেগ
আহমেদ ইসমাম, ঠাকুরগাঁও : দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে হানা দিয়েছে সংক্রামক ব্যাধি হাম ও রুবেলা। জেলার সদর, রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার চার শিশু শনাক্ত হয়েছে আক্রান্তের তালিকায়।
এদের মধ্যে হামে আক্রান্ত দুই শিশু ও রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এতে উদ্বেগ বাড়ার সাথে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে অপরদিকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে মাঠ পর্যায়ে সংক্রমণের খবর মিললেও কেন্দ্রীয় গুদামে টিকার মজুত শূন্য বলে জানা গেছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে রুবেলা তুলনামূলক কম গুরুতর। তবে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। টিকাদানে অনীহা বা অসম্পূর্ণ হওয়ায় সংক্রমণ বাড়তে পারে। এছাড়াও সংক্রমন এড়াতে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) তথ্যমতে, ২০২০ সালের পর বড় কোনো জাতীয় ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং নিয়মিত সরবরাহে ঘাটতি থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.ফিরোজ জামান জুয়েল জানান, হাম মোকাবেলায় হাসপাতালে চার শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। দুজন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তারা বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা আনিছুর রহমান জানান, আক্রান্ত শিশুরা তত্বাবধানে রয়েছে। হামের পরীক্ষার জন্য ৬ জন শিশুর স্যাম্পল পাঠিয়েছিলাম। দুজন আক্রান্ত হয়েছে হামে এবং রুবেলায় আরও দুজন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই আশেপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহবান জানান তিনি।
(এফআর/এসপি/এপ্রিল ০২, ২০২৬)
