ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে দেশটির অবকাঠামোতে হামলার সতর্কবার্তা দিয়ে ইস্টার সানডেতে এক বিতর্কিত ভাষায় ইরানকে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল রবিবার সকালে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে লেখেন, মঙ্গলবার হবে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’ইরানে একসঙ্গে সবকিছুই ঘটবে। এমন কিছু আগে কখনো দেখা যায়নি! ওই প্রণালী খুলে দাও, নইলে নরকে বাস করতে হবে—দেখে নিও!

এর আগের দিনও তিনি ইরানের ওপর 'ভয়াবহ হামলা' চালানোর হুমকি দেন, যদি দেশটি হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু না করে। এই প্রণালী বিশ্ব তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে তেলের দাম বাড়তে থাকে।
ট্রাম্প আরও বলেন, আমি ইরানকে ১০ দিনের সময় দিয়েছিলাম চুক্তি করো বা হরমুজ প্রণালী খুলে দাও। সময় ফুরিয়ে আসছে আর ৪৮ ঘণ্টা পরই ভয়াবহ পরিস্থিতি নেমে আসবে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান বেশ কঠোর। তিনি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন, যারা এই রুটের জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, যাতে তারা ইরান পরিস্থিতিতে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করে।

তবে মার্কিন মিত্রদের অবস্থান ভিন্ন। যুক্তরাজ্য বৃহস্পতিবার ৪১টি দেশকে নিয়ে বৈঠক করে প্রণালীটি পুনরায় চালুর উপায় নিয়ে আলোচনা করে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে 'জিম্মি' করে রাখার জন্য তেহরানকে দায়ী করে।

অন্যদিকে,এম্মানুয়েল মাক্রোন ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপে ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণের ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যে অপারেশন তারা নিজেরাই শুরু করেছে, তার জন্য সমর্থন না পাওয়ার অভিযোগ তারা করতে পারে না। এটি আমাদের অপারেশন নয়।

রবিবারের এই হুমকির আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উত্তর-মধ্যাঞ্চলের একটি বড় সেতুতে হামলা চালায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট ধ্বংস করা।

(আইএ/এসপি/এপ্রিল ০৬, ২০২৬)