স্টাফ রিপোর্টার : জ্বালানির সরবরাহ কিছুটা কমলেও তা সংকটজনক নয়। তবে অবৈধ মজুতে ও অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতার কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিপুল ভর্তুকির চাপ রয়েছে, যা ধাপে ধাপে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে।

তবে জনজীবনে যেন এর প্রভাব কম পড়ে সে বিষয়ে সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।

এসময় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ তথ্য মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানির সরবরাহ কি অনেক কমে গেছে যে আমরা এত বড় লাইন দেখছি।

জ্বালানি কি দেওয়া হচ্ছে না? কয়েকটা ডেটা যদি আমরা খেয়াল করি ২০২৫ ও ২০২৬ এর মধ্যে, ২০২৫ সালের মার্চে ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮ টন, এই মার্চে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫১২ টন। কিছুটা কমেছে তো বটেই কিন্তু সেটা খুব কমে গেছে তা নয়। অকটেন ৩৭ হাজার ৯৮২ টন ছিল ২০২৫ এর মার্চে। আমরা দুটো বছরের মার্চকে তুলনা করছি। অকটেনের সরবরাহ বরং খানিকটা বেড়েছে ৩৭ হাজার ৪৩৯ টন। পেট্রোল গত বছরের মার্চে ছিল ৪৬ হাজার ৩৭১ টন, এটা এই মার্চে হলো ৩৯ হাজার ১৯৮ টন। এটার সরবরাহ কিছুটা কমেছে। তার মানে আমরা এটা বলতে চাই, আমাদের সরবরাহজনিত কিছুটা সমস্যা আছে। শব্দটা আসলেই কিছুটা। ৪৬ হাজার থেকে যখন ৩৯ হাজার হয়, ৭ হাজার কমেছে। আসলে এটা ১০ শতাংশের খানিকটা বেশি, ১৫ শতাংশের মতো একটু কম সরবরাহ আছে। এটা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় খুব আনইউজুয়াল না।

তিনি বলেন, এই যে পেট্রোল নেই, অকটেন নেই, একেবারে খারাপ অবস্থা– পরিস্থিতিটা ওইরকম না, এটার জন্য যেটা আমরা দাবি করেছি। যে প্রচুর অবৈধ মজুত হয়, সেটা আশঙ্কার। অবৈধ মজুত যেটা হচ্ছে সেটার জন্য কারো ইভিল ইনটেনশন আছে। সেটা হচ্ছে যে তারা কেউ কেউ পাচার বা বেশি মূল্যে বিক্রি করতে চান, সেটা আছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, পাচারের একটা সারকামস্ট্যান্সিয়াল এভিডেন্স এরকম হতে পারে যে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দেখা গেছে, বাড়িতে বিভিন্ন জায়গায় মজুত করে রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বেশি, তাতে একটা ইন্ডিকেশন হচ্ছে পাচার হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকবে। কারণ এই প্রশ্ন অনেকেই করেছেন যৌক্তিকভাবে। আমাদের জ্বালানির দাম যদি অনেক কম হয় আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায়, পাচার হওয়ার প্রবণতা থাকবে। কিন্তু তার চাইতেও জরুরি কথা মানুষ নিজে শঙ্কিত। ফলে তারা অনেকে তার নিজের ভবিষ্যতের চিন্তা করছেন। সো, আমরা এটাই বলতে চাইছি, আসলে মূলত প্যানিক বাইং এবং সেটাকে জমিয়ে রাখার প্রবণতার জন্য মজুতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এপ্রিল মাসে অভিযানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, এপ্রিলে অভিযান সংখ্যা ৭৪টি, মামলার সংখ্যা ১১৪টি, অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এরকম আমরা প্রচুর পাচ্ছি। আর মজুত সংক্রান্ত তথ্য আপনাদেরকে একটু দিয়ে রাখি যে, আমাদের এপ্রিলের ৬ তারিখ পর্যন্ত সরকারের মজুতের পরিমাণ ছিল ডিজেল ১ লাখ ১৪ হাজার ১২২ টন, অকটেন ১০ হাজার ১৫১ টন, পেট্রোল ১৩ হাজার ৪০৫ টন।

এই উপদেষ্টা বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে আপনারা জানেন প্রচুর ভর্তুকি লাগে। জ্বালানিমন্ত্রী বলেছিলেন, আপনাদের হয়ত অনেকের চোখে পড়েছে যে এখানে প্রায় দেউলিয়া একটা খাত– মানে এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই ধরনের ভর্তুকি আমাদের আছে। এই ভর্তুকি আসলে চলবে, আপাতত চলছে। এই ভর্তুকিটা ম্যানেজ করার চেষ্টা সরকারের দিক থেকে করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করব এটা যতটা কমানো যায়। আর যাতে জনজীবনে খুব বেশি চাপ না পড়ে। এরপরও আমরা যেভাবে জ্বালানির মূল্য ঠিক রাখছি সেক্ষেত্রে এখানেও আমাদের প্রস্তুতি বাড়াতে হচ্ছে। সো এই পরিস্থিতিটা এখনো যে কন্ট্রোলের জায়গায় আছে তা না।

তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের দেনার একটা ছোট্ট পরিসংখ্যান আপনাদেরকে জানাই। সেটা হচ্ছে আইসিগুলো যেগুলো কৃষকের বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত সেগুলোতে ২০ হাজার ২৭২ কোটি টাকা, আদানি পাওয়ারের ২ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা, জয়েন্ট ভেঞ্চার ৬ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, পেট্রোবাংলার এক হাজার ৪৫ কোটি টাকা, সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির ৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা।

(ওএস/এএস/এপ্রিল ০৭, ২০২৬)