মুকসুদপুরে প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবি ও ইউপি সদস্যদের লাঞ্চনার অভিযোগ
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জনাব আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবী, গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্চনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উজানী ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে “বাসুদেবপুর দাসবাড়ি হতে উত্তর দিকে ৭০নং বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন” প্রকল্প পরিদর্শনে এসে ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পরিতোষ বৈদ্যের কাছে উৎকোচ দাবী করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয় লোকজনের সামনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কাবিখা প্রকল্পের আওতায় “বাসুদেবপুর ওবায়দুরের বাড়ি হতে পশ্চিমে কয়াপদা খাল পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ” প্রকল্পের শেষ বিলের সময় মামলার ভয় দেখিয়ে পরিতোষ বৈদ্যের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়া হয়।
একইভাবে, টিআর প্রকল্পের আওতায় “হেমায়েত মোল্লার বাড়ি হতে পূর্ব দিকে সরকারি হালট হয়ে ওহাব শেখের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ” প্রকল্পে সিপিসি মোঃ জিহাদুর রহমানের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং বন্যাহাটি ৯নং ওয়ার্ডে “জগদীশ মৃধার বাড়ি হতে পূর্ব দিকে ওয়াপদা খাল পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ” প্রকল্পে সিপিসি জয়দেব মন্ডলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব ঘটনায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়। এমনকি স্থানীয়রা বাধা দিতে এলে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কানাই মুখাকেও লাঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের “১৭৬ নং পার্টিকেলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট” প্রকল্প পরিদর্শনের সময় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিফুল বিশ্বাসের কাছেও উৎকোচ দাবী করা হয়। তিনি টাকা দিতে রাজি না হলে তাকেও অপমান ও লাঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য—পল্লব চৌধুরী, দীপংকর বিশ্বাস, মৃদুল বিশ্বাস, পলি বিশ্বাস, ত্রিনাথ পাণ্ডে ও পংকজ হালদারের কাছ থেকেও মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা জানান, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ ধরনের আচরণ তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও দুঃখজনক। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
(টিবি/এসপি/এপ্রিল ০৭, ২০২৬)
