লৌহজং এসিল্যান্ড অফিস ঘেরাও করে সচেতন সমাজের ব্যানারে বালু ববসায়ীদের মানববন্ধন
মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : লৌহজং এসিল্যান্ড অফিস ঘেরাও করে সচেতন সমাজের ব্যানারে বালু ববসায়ীদের মানববন্ধন করেছে। তারা লৌহজংয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থ অর্জনের বিরুদ্ধে লৌহজং উপজেলা ঘুষখোর এসিল্যান্ড অফিসের উমেদার ইমন ও গাড়ীচালক আল আমিনের অপসারণের দাবী করেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মানববন্ধনকারীরা এসিল্যান্ডকে ঘুষখোর বলে আখ্যা দেন।
ভুক্তভোগী ও লৌহজং উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ মানববন্ধন হলেও মূলত এখানে কিছ সংখ্যক বালু ব্যবসায়ী ও ড্রেজারের লোকজনকে দেখা গেছে মানববন্ধন করতে। তারা নিজেই মানববন্ধনে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দিয়ে স্বীকার করেছে এসিল্যান্ড তাদের মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে লাখ টাকা জারমানা করেছে। তাদেরকে বালু ব্যবসা করতে দেয়া হচ্ছেনা। তাদের বক্তব্য থেকে বুঝা যায় তারা অবৈধভাবে বালু ব্যবসা ও মাহেন্দ্র চালাতে পারছেনা দীর্ঘ দিন। পদ্মায় অবৈধ বালু কাটতে গেলে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাদেরকে হাজার হাজার টাক জরিমানা করছে। আর তা থেকে ক্ষুব্ধ হয়েই তারা এ মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছে।
অরুণ মাঝি নামে একজন বালু ও মাহেন্দ্র ব্যবসায়ী মানববন্ধনে ব্কব্যদানকোলে বলেন, আমরা মাহেন্দ্র চালাতে পারছিনা। ইউএনও মহাদয়ের নিকট আমাদের বৈধ কাগজপত্র দাখিল করার পরেও অমরা ব্যবসা করতে পারছিনা। এসিল্যান্ড অফিসের ড্রাইভার আল আমিন আমাদের কাছে টাকা চায়। টাকা না দিলে আমাদের গাড়ী ধরে নিয়ে ভাঙচুর করে। আমাদের ড্রেজারগুলো আটকিয়ে রেখে লাখ লাখ টাকা জরিমানা করে। টাকা দিলে ব্যবসা করতে দেয়। স্টাফ ইমনের বাড়িতে বিল্ডিং করেছে। ড্রাইভার আল আমিনে নামে ঘোরদৌড় বাজার ৪টি দোকান রয়েছে।
ঘোরদৌড় বাজারের এক চা দোকানী বলেন, মাছ বাজারে সরকারী জায়গায় আমার একটা চায়ের দোকন ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমালে তা ভেঙে দিয়ে আল আমিনের নামে লিজ নেয়। তার মা বোনের নামেও দোকান ঘর লিজ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা দাবী করছে, পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে লৌহজংয়ের মানচিত্র ইতিমধ্যে ছোট হয়ে গেছে। একদল অবৈধ বালু ব্যবসায়ী আবারও পদ্মা হতে ড্রেজার বসিয়ে বালু কেটে আমাদের ভিটে বাড়ি নদী গর্ভে ফেলে দিতে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পদ্মায় বালু কাটা বন্ধ থাকায় তারা সুবিধা করতে না পেরে এখন মানববন্ধন করে প্রশাসনকে বাগে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে রানীগাও গ্রামের আব্দুল কাদের বলেন, অনেক বছর পর আমার বাপ দাদার ভিটে বাড়ী জেগে উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএর সাথে যোগ সাজস করে এসব অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা আমাদের জেগে উঠা এ জায়গায় আবারও ড্রেজার বসিয়ে জমিকে নদী করে দিতে চাচ্ছে। আমরা এ নিয়ে ইতিমধ্যে আন্দেলন শুরু করেছি। তাই এদেরকে প্রশ্রয় দিলে লৌহজংবাসীকে আবারও নদী গর্ভে ফেলে দেয়া হবে।
অভিযোগের ব্যাপরে উমেদার ইমনকে জিঞ্জেস করলে তিনি বলেন, ঘোরদৌড় কেন কোন বাজারেই আমার নামে কোন দোকানঘর লিজ নেই। এমনকি কি দোকানও নেই। আমি আমার পত্রিক ভিটায় বসবাস করি। আমার বাবা জীবিত থাকতে আমাদের বাড়িতে একটি বিল্ডিং তোলা হয়েছে। আমার এক ভাই ইউরোপে তাকে। সেখান থেকে সে প্রতি মাসে ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে। সেই টাকা দিয়ে আমার বাবা বাড়িতে বিল্ডিং তুলেছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্যার (এসিল্যান্ড) যখন মোবাইল কোর্ট করে তখন তার সাথে আমাদের যেতে হয়। আমরা স্যারের নির্দেশে অবৈধ মাহেন্দ্র, ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করে থাকি। এ কারণে তারা আমাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে এ মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে লৌহজং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাসিত সাত্তার বলেন, যারা মানববন্ধন করেছে তারা মূলত বালু ব্যবসার সাথে জড়িত। গত ৩১ মার্চ আমি বেজগাও পদ্মা পারে একটি মেবাইল কোর্ট করে দুটি বাল্ক হেড জব্ধ করি এবং ২ জনকে সাজা প্রদান করি। পরে জব্দকৃত বাল্কহেড দুটিও গায়েব হয়ে যায়। এদুটিও আমারা পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে উদ্ধার করি। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। মূলত যারা জেল জরিমানার শিকার হচ্ছে তারাই ক্ষুব্ধ হয়ে আজ মানববন্ধন করছে। ২০০৪ সালেও এরকম ঘটনা গটিয়েছিল তারা। পদ্মায় অবৈধ বালু কাটার ব্যাপারে অমরা অনড় থাকার কারণেই সুবিধা না করতে পেরে একটি চক্র আমাদের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ এনে থাকে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যে। আমার ড্রাইভারকে ২০২৩ সালে তৎকালীন ডিসি মহোদয় তাকে বসবাসের জন্য এক খন্ড জমি দিয়েছে। এর বাইরে আমাদের রেজিষ্টারে তার নামে কোন ভূমির সন্ধান আমরা পাইনি। তবে আমার অফিস স্টাফদের ব্যাপারে ২০২৪ সালেও এরকম অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা তদন্ত করে দেখা হয়েছে। একই বিষয় বার বার উত্থাপনের মানি বুঝা যাচ্ছে আমরা কারো স্বার্থে আঘাত হানছি, তাই আমাদের বিরুদ্ধে ওই মহলটি এরকম করছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলতে চাই অবৈধ বালু কাটার ব্যাপারে আমরা কাউকে এক বিন্দুও ছাট দিবোনা। অভিযোগগুলো সত্য নয়।
(এমকে/এসপি/এপ্রিল ০৭, ২০২৬)
