আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। তিনি এমন সময় এ আহ্বান জানালেন যখন দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

লন্ডনের ম্যানশন হাউজে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন, এরপর ‘পুনরায় সংঘাতে ফেরার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়’।

এই ঘোষণার পরও ইসরায়েল লেবাননে হামলা জোরদার করেছে, যেখানে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন।

এর প্রেক্ষিতে ইরান আবারও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয়।

তার এই বক্তব্যের পর লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হবে, এমন আশা ভেস্তে গেছে।

হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি।
ইরান ভেবেছিল লেবাননও যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তা নয়। আমরা কখনো এমন প্রতিশ্রুতি দেইনি।’

তবে বৃহস্পতিবার ‘লেডি মেয়রের ইস্টার ভোজ’ অনুষ্ঠানে কুপার বলবেন, লেবাননকে অবশ্যই এই যুদ্ধবিরতির আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলবেন, ‘এখনো অনেক কাজ বাকি। আমরা আলোচনাকে সমর্থন করি, এতে অগ্রগতি হতে হবে; সংঘাতে ফেরা চলবে না; লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে; ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিবেশীদের প্রতি আর কোনো হুমকি থাকা যাবে না; এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।’

ইভেট কুপার আরও উল্লেখ করবেন, ‘এখান থেকে তিন হাজার মাইল দূরে হলেও, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে আমাদের দেশের মর্টগেজ, জ্বালানি ও খাদ্যের দামে। বিশ্বের প্রতিটি দেশই এর প্রভাব অনুভব করছে।’

ইরান গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে জ্বালানি ও সার উভয়ের দাম বিশ্ববাজারে বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কুপার তার বক্তব্যে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খোলা রাখার গুরুত্বও তুলে ধরবেন। তিনি বলবেন, ‘আফ্রিকার সার, এশিয়ার তরল প্রাকৃতিক গ্যাস, বিশ্বজুড়ে বিমান জ্বালানি সবকিছুর বাণিজ্যপথ ইরান কার্যত জিম্মি করে রেখেছে। কোনো দেশই এভাবে সমুদ্রপথ বন্ধ করতে পারে না, এটি সমুদ্র আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।’

তিনি আরও বলবেন, ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভিত্তি। প্রতিটি দেশ ও শিল্প এর সঙ্গে জড়িত। তাই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার প্রস্তাব অনুযায়ী আটকে পড়া জাহাজ ও প্রায় ২০ হাজার নাবিককে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করা উচিত, এটি মানবিক ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই জরুরি পদক্ষেপ। এরপর হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ ও নিঃশর্ত পুনরায় উন্মুক্তকরণ শুধু বর্তমান যুদ্ধবিরতি নয়, ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতারও কেন্দ্রীয় অংশ হতে হবে।’

তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

(ওএস/এএস/এপ্রিল ০৯, ২০২৬)