ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সুজন শেখ (৩৫) নামের এক স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় এ বিষয়ে একটি ধর্ষণ মামলা (মামলা নম্বর-২৩ তাং ৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং) দায়ের করেছেন ওই ভুক্তভোগী নারী।
ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম 'দৈনিক বাংলা ৭১'কে এ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি শহিদুল জানান, বুধবার ফরিদপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা ওই নারী (৪৫) নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলাটিতে সুজন শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর বয়ান ও তার করা মামলার বরাতে কোতয়ালী থানা পুলিশ জানায়, ওই নারীর স্বামী গত এক দশক আগে মারা গেছেন। এরপর থেকে ওই নারী অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সম্প্রতি সুজন শেখ তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবাভাতার কার্ডের প্রলোভন দেখালে তিনি তাতে রাজি হন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২ এপ্রিল সুজন ওই নারীকে কার্ড করতে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার কথা বলে তার বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসেন। পরে, শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন সুজন। এরপর তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে চার দিন চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে ৬ এপ্রিল তিনি বাড়িতে ফিরেন। এরপর গত মঙ্গলবার ওই নারী থানায় হাসপাতালের কাগজপত্র সহ কোতয়ালী থানায় হাজির হয়ে লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আসামি সুজন শেখকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নিজেকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি'র কর্মী দাবি করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দৈনিক বাংলা ৭১কে বলেন, 'তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এই নারী এ ধর্ষণ মামলাটি করেছেন। তবে ওই নারীকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড তিনি মানবিক কারণে করে দিতে চেয়েছেন বলে জানান।
নিজেকে বিএনপি'র কর্মী দাবি করায় সুজন শেখের বিষয়ে 'দৈনিক বাংলা ৭১' কথা বলে স্থানীয় বিএনপি'র একাধিক নেতার সাথে। এ সময় সুজন শেখ বিএনপি করেন কিনা তা তাদের কেউ জানেন না বলে জানান। ওই নেতৃবৃন্দ আরও জানান, বিএনপি'র ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে এমন কাজ কেউ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে দল। এসব বাজে কাজ করা কোনো ব্যক্তির সাথে বিএনপি'র কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় ওই ব্যক্তির, সংগঠন হিসেবে বিএনপি এর দায় কখনোই নিবেনা বলেও জানান তারা। এছাড়া, দলের নাম ভাঙিয়ে এসব জনস্বার্থ বিরোধী ঘৃণিত কাজ করার সুযোগ কারোরই নেই, এমন কি কোনো সক্রিয় নেতার কর্মীরও নেই বলেও জানান বিএনপি'র স্থানীয় ওই নেতারা।
কোতয়ালী থানা পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের পর এ বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মেলায় অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে থানায় এ মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
মামলাটির তদন্তের বিষয়ে পুলিশ আরও জানায়, গত মঙ্গলবার কোতয়ালী থানায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর ওই দিন মামলার বাদী ওই নারীকে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনাস্থল (আবাসিক হোটেল) শনাক্তের কাজ করা হয়েছে। তবে তিনি সঠিকভাবে হোটেলটি শনাক্ত করতে না পারায় পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় হোটেল শনাক্তে কাজ করছে। হোটেল শনাক্তের পর হোটেলের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করলে এ মামলার তদন্ত অনেকটাই এগিয়ে যাবে বলেও 'দৈনিক বাংলা ৭১'কে জানিয়েছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
এছাড়া, মামলাটির যথাযত গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে থানা পুলিশের তদন্ত ও একই সাথে এ মামলার আসামি সুজন শেখকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
(আরআর/এএস/এপ্রিল ০৯, ২০২৬)
