পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কৃষিতে যুক্ত হলো এক নতুন সম্ভাবনা। প্রথমবারের মতো এখানে শুরু হয়েছে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য খুলে দিতে পারে লাভজনক নতুন পথ।

আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাটমাধাই গ্রামের কৃষক রাসেল আহমেদের পেঁয়াজ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষেতজুড়ে শুধু পেঁয়াজের সবল ও সুস্থ গাছ। গত ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৬০ শতক জমিতে তিনি পেঁয়াজ রোপণ করেন। প্রতিদিন ১০/১২ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। এপ্রিল মাসের শুরুতেই কিছু বীজ সংগ্রহ শুরু করে। তবে এ মাসের মাঝামাঝিতে পূর্ণাঙ্গভাবে বীজ সংগ্রহ করবেন তিনি। এই উদ্যোগ শুধু রাসেল আহমেদের জন্যই নয়, স্থানীয়দের জন্যও আশীর্বাদ হয়ে উঠছে। দৈনিক ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে পেঁয়াজ চাষী রাসেল আহমেদ বলেন, এতদিন ধান ও আলু চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু ধারাবাহিক লোকসানের কারণে বিকল্প কিছু করার চিন্তা করে এবার সাহসী উদ্যোগে নিয়ে পলিক্রস জাতের পিয়াজের বীজ রোপন করি। শখের বসেই শুরু করেছিলাম। আগামীতে আরও বড় পরিসরে করবো। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লাভের আশা করছি।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামছুন্নাহার সাথী বলেন, কুড়িগ্রামে এবারই প্রথম পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতদিন এই বীজ ফরিদপুর থেকে সংগ্রহ করতে হতো। এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়লে খরচ কমবে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল এবং কুড়িগ্রামের আবহাওয়া এ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

(পিএস/এসপি/এপ্রিল ০৯, ২০২৬)