স্টাফ রিপোর্টার : ফেসবুক এখন নাগরিকদের গোপনীয়তা, ব্যক্তিগত তথ্য ও মানসিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুয়া প্রোফাইল, পরিচয় চুরি, সাইবার বুলিং, নারী ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর পক্ষে প্রোপাগান্ডা, প্রতারণামূলক লিংক, এআই দিয়ে বানানো ডিপ ফেইক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দুর্বল মনিটরিং ও আমাদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারির অভাবে ব্যবহারকারীরা সহজেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে প্রতারণার নতুন কৌশল (যেমন ফিশিং, ম্যালওয়্যার লিংক, নকল অফার) ব্যবহার করে অর্থ ও তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। 

আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “ফেসবুক কে নিরাপদ করতে সরকারের করণীয়” জানাতে “উন্মুক্ত আলোচনা সভার” আয়োজন করে “টেলি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিক্যাব)”।

আলোচনা সভায় টিক্যাবের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে নিম্নোক্ত ৫টি দাবি সমূহ পেশ করা হয়-

১. বিভিন্ন গণমাধ্যমের লোগো ও ফটোকার্ডের আলোকে ক্লোন পেইজ তৈরি করে ভুয়া প্রোপাগান্ডামূলক ফটোকার্ড ছড়ানো ফেসবুক পেইজ ও ভুয়া ফেসবুক আইডিগুলো বন্ধ করতে হবে এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

২. দেশের ৬০%-এর বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার করায় এখানে অপরাধের হার বেশি। কিন্তু মোট ভিকটিমের ৮০% আইনি পদক্ষেপ নেন না। যারা অভিযোগ করেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১৯% ইতিবাচক ফল পান। তাই ভিকটিমের কনফিডেন্স বাড়াতে দেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থাতেই অভিযোগ দাখিলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. সরকারকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করে অপরাধ দমনে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে ফেসবুক কে বাধ্য করতে হবে।

৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে নিরাপদ ফেসবুক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও গণমাধ্যমে প্রচারাভিযান চালাতে হবে।

৫. সাইবার বুলিং, কুরুচিপূর্ণ অসামাজিক অশ্লীল কন্টেন্ট ক্রিয়েশন বন্ধ, ই-কমার্স পেইজের প্রতারণাসহ সাইবার অপরাধ দমনে হটলাইন ও বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে জাতীয় হটলাইন চালু এবং জেলা ও থানা পর্যায়ে প্রশিক্ষিত টিম গঠন করে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে।

টিক্যাব সভাপতি মুর্শিদুল হক (বিদ্যুৎ)’র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন টিক্যাবের উপদেষ্টা ও জাতীয় সাহিত্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ছাবের আহাম্মদ (কাজী ছাব্বীর), টিক্যাবের উপদেষ্টা ও বাস্তুহারা দল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, টিক্যাবের উপদেষ্টা ও সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার, টিক্যাবের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলু, জাতীয়তাবাদী কৃষকদল কেন্দ্রীয় সংসদের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন বেপারী, টিক্যাবের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মুসা ফরাজী, টিক্যাবের উপদেষ্টা ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)’র মহাসচিব হারুন আল রশিদ খান, টিক্যাবের সম্মানিত সদস্য ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, ইসলামি ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আমিন, সিএলএনবি’র চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশ সমতা পার্টির সভাপতি হানিফ বাংলাদেশী, বাংলাদেশ জনজোট পার্টি (বাজপা)’র চেয়ারম্যান মুজাম্মেল মিয়াজী, ভিশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোরসালিন ইসলাম বাবু, টিক্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম, সোহেল মিয়া, মো. ফারুক প্রমুখ।

(পিআর/এসপি/এপ্রিল ১১, ২০২৬)