বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হাম-সদৃশ্য উপসর্গে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চলতি বছরের মার্চের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হলে সবগুলোতেই নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে এক বছরের নিচে শিশুর সংখ্যাই বেশি। পূর্বে হামের টিকাদান কার্যক্রম চালু থাকলেও বিশেষ কোনো ক্যাম্পেইন ছিল না। তবে বর্তমানে শিশু বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার ও নার্সদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইতোমধ্যে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ঔষুধের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মাসের ২০ তারিখ থেকে শিশুদের মাঝে হামের প্রতিষেধক টিকা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। এছাড়া ইপিআই (EPI) সিডিউল অনুযায়ী ৯ মাস থেকে ২ বছর বয়সী সকল শিশুকে নিয়মিতভাবে হাম প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হবে। হাম-সদৃশ্য উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে হাসপাতাল।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রথমে জ্বর দেখা দেয় এবং ২-৩ দিনের মধ্যে শরীরে লালচে দানা উঠতে পারে। এর সঙ্গে হাঁচি, কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শারমিন কবিরাজ বলেন,এ পর্যন্ত যতগুলো নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, সবগুলোতেই হাম রোগের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

(বিএস/এসপি/এপ্রিল ১১, ২০২৬)