‘দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল শীঘ্রই কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে পাবে’
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ থাকা মৃত প্রায় দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল খুব শীঘ্রই পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। আজ রবিবার সকালে মিলটি পরিদর্শন শেষে এই সুসংবাদ দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এমপি।
এ সময় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম এমপি বলেন, 'দ্রুত সময়ের মধ্যে এ অঞ্চলের মানুষের গর্ব দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল' চালু করা হবে।কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে আসবে এ মিলে। এজন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এনিয়ে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর। আপনারা জানেন যে দেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রিয় নেতা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বন্ধ মিল-কারখানাগুলো চালু করবে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা এগিয়ে চলেছি। মিলটি সচল হওয়ার মাধ্যমে দিনাজপুরের হাজার হাজার বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।'
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করার। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের বন্ধ থাকা সব বড় বড় কলকারখানা ও টেক্সটাইল মিলগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলটি চালুর জন্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়াটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে এবং খুব দ্রুতই মিলটি উৎপাদনে ফিরবে।'
প্রতিমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে দিনাজপুরের এই ঐতিহ্যবাহী মিলের কারখানা,বিশাল গুদামঘর এবং প্রশাসনিক ভবন ঘুরে দেখেন। প্রায় ২২ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় অবকাঠামোগত যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সংস্কার করে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। এই মিলটি চালু হলে কেবল কর্মসংস্থানই সৃষ্টি হবে না, বরং উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। যে শ্রমিকরা এক সময় কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন, তারা পুনরায় তাদের কর্মস্থলে ফিরে পাবেন সম্মানজনক জীবিকা। এটা বেশি দেরি হবে না, আন্তর্জাতিকভাবে টেন্ডার হয়েছে। প্রক্রিয়াগত দিক শেষ করে খুব দ্রুতই এ কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে পাবে। এ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান আবার নতুন করে তৈরি হবে। পিপিপি পদ্ধতি সরকারি ও বেসরকারি প্রাইভেট সেক্টর মিলেই এই মিল চালু হবে। আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি নির্বাচনি কমিটমেন্ট অনুযায়ী আমরা কর্মসংস্থান এবং এই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত আবার চালু করার যে পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী নিয়েছে তার ধারাবাহিকতায় দ্রুত এই মিল চালু হবে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে মন্ত্রণালয়ের সচিব, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিলটি চালুর ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দিনাজপুরের এই টেক্সটাইল মিলটি ৩৭ একর বিশাল জায়গার ওপর ১৯৭৮ সালে নির্মিত হয়েছিল। ১৯৮০ সালে ১৩৫০ জন শ্রমিক নিয়ে দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলটি চালু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে মিলটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিশাল লোকসানের বোঝা নিয়ে মিলটি ১৯৯৪ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়। কয়েকবার খোলা এবং বন্ধের পর ২০০৭ সালে মিলটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২২ বছর পর পুনরায় মিলটি চালুর ঘোষণায় দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ ও সাবেক শ্রমিকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই উদ্যোগটি সফল হলে দিনাজপুর অঞ্চলের শিল্পায়নে নতুন গতির সঞ্চার হবে।
(এসএস/এসপি/এপ্রিল ১২, ২০২৬)
