দখল দূষণে নদ-নদী এখন মরা খাল
হাবিবুর রহমান রুবেল, ঝিনাইদহ : এক সময় যে নদ-নদী ছিল ঝিনাইদহ জনপদের প্রাণ, জীবিকার উৎস আর প্রকৃতির ভারসাম্যের অন্যতম ভিত্তি, আজ সেগুলোই দখল আর দূষণের কবলে পড়ে পরিণত হয়েছে মরাখালে। জেলার ছয়টি উপজেলার ১২টি নদ-নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। দখলদারদের অবাধ দৌরাত্ম্য, শিল্পবর্জ্য ও গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদীগুলোকে ক্রমেই মৃতপ্রায় করে তুলছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১২টি নদ-নদীর মোট আয়তন ১ হাজার ৬৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর। জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা নবগঙ্গা নদী দিয়ে একসময় চলাচল করতো বড় বড় নৌকা। সেই নদীতে করা হচ্ছে চাষাবাদ। স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাষাবাদ ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করছেন খরস্রোতা এই নদী।
একই চিত্র জেলার চিত্রা, কুমার, গড়াই, ইছামতি, ও কপোতাক্ষসহ ১২ টি নদ-নদীর। কোথাও উৎসমুখে দেওয়া হয়েছে বাঁধ, কোথাও আবার নদীর তীর দখল করা হয়েছে। ফলে ক্রমাগত কমছে নদীর প্রশস্ততা ও গভীরতা। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ, কমে যাচ্ছে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল।
সদর উপজেলার চাপড়ী এলাকার বাসিন্দা প্রহ্লাদ সরকার বলেন, নবগঙ্গা নদীতে মাছ ধরে আমরা সংসার চালাতাম। এখন সেই নদী ভরাট হয়ে গেছে, পানি নেই বললেই চলে। সংশ্লিষ্টরা এই নদীর বিষয়ে ব্যবস্থা না গ্রহণ করলে অচিরেই হারিয়ে যাবে।
শহরতলীর খাজুরা এলাকার বাসিন্দা রেকসোনা খাতুন বলেন, এক সময় এই নদীতে অনেক পানি থাকতো। গোসল, কাপড়-চোপড় ধোয়া-কাচার কাজ করতাম। এখন একটুও পানি থাকছে না নদীতে।
জেলা জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, নদী পুনরুদ্ধারের জন্য প্রথমেই উৎসমুখে নির্মিত বাঁধ অপসারণ করা জরুরি। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হলে উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। শুধু খনন করলেই হবে না, সে সঙ্গে দখলমুক্ত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ করাটাও জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝিনাইদহের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কুমার দাস বলেন, নদী দখলমুক্ত করতে পর্যায়ক্রমে আমরা অভিযান পরিচালনা করবো। নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনাটি শিগগিরই বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
(এইচআর/এসপি/এপ্রিল ১২, ২০২৬)
