দিনাজপুরে পুলিশের সামনে আসামি ভেঙ্গে ফেললো সাংবাদিকের মোবাইল ফোন!
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার ভেতরে ভিডিও ধারণের সময় পুলিশের সামনেই এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। অপহরণ মামলার আসামি ইমন পুলিশের উপস্থিতিতেই সাংবাদিকের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাকিমপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার সকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ এর হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা প্রতিনিধি ও মুভি বাংলা টিভির দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি মো. মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম, সময় টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম এবং রাইজিংবিডির দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি মোসলেম উদ্দিনসহ কয়েকজন সাংবাদিক হাকিমপুর থানায় যান। সেখানে হাজতখানা থেকে অপহরণ মামলার আসামি ইমনকে মিডিয়ার সামনে আনার সময় পুলিশের অনুমতি নিয়ে ভিডিও ধারণ শুরু করেন তারা।
এ সময় আসামি ইমন হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিক মোয়াজ্জেমের হাত থেকে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন এবং মাটিতে আছড়ে দিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডিউটি অফিসারসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ছিলো নিরব। কোনো প্রতিবাদ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অভিযুক্ত ইমনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে হাকিমপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ ইমাম কবির বলেন, 'থানার ভেতরে সাংবাদিকের সঙ্গে এমন ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। একজন সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করবেই। আসামির এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।'
পরে সাংবাদিকরা থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে না পেয়ে ডিউটি অফিসার এসআই শাহনাজ পারভীন সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি কর্ণপাত করেননি বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
এরপর এ বিষয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মাহফুজুর রহমানকে মৌখিক অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
এ বিষয়ে এসআই মাহফুজুর রহমান বলেন, 'ওসি সাহেব থানার বাইরে রয়েছেন। বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এদিকে থানার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ রাতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা মেহের আলীকে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির লোভে তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও জামাই ইমন অপহরণ করেন। এ ঘটনায় মেহের আলীর বর্তমান স্ত্রী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরে গত ১১ এপ্রিল পুলিশ বগুড়া থেকে মেহের আলীকে উদ্ধার করে এবং রোববার রাতে বাংলাহিলি বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত ইমনকে গ্রেপ্তার করে।
আজ সোমবার দুপুরে তাকে দিনাজপুর আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।
(এসএএস/এএস/এপ্রিল ১৩, ২০২৬)
