বৈশাখের প্রথম দিনেই তাপপ্রবাহ, হাঁপিয়ে উঠছেন শ্রমিকেরা
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : বৈশাখের প্রথম দিনেই ঈশ্বরদীতে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। খরতাপে যেন স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো জনপদ—শহর, গ্রাম, পথঘাট, সড়ক-মহাসড়ক সবখানেই বিরাজ করছে অসহনীয় উত্তাপ।
সূর্যের প্রখর রোদে পিচঢালা সড়ক যেন জ্বলন্ত উনুনে পরিণত হয়েছে। জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হওয়া মানুষগুলো পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। আজ মঙ্গলবার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ। বাতাসেও যেন আগুনের ছোঁয়া।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, গত ৪ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে তখন সূর্যের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল। পরবর্তীতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ১২ এপ্রিল থেকে আবার মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ওইদিন তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং ১৩ এপ্রিল তা কমে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রিতে নেমে আসে। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও তাপমাত্রা বেড়ে ১৪ এপ্রিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে।
টানা তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তপ্ত রোদে কাজ করতে গিয়ে আধা ঘণ্টা না পেরোতেই হাঁপিয়ে উঠছেন শ্রমিকেরা। তীব্র গরমেও জীবিকার তাগিদে তাদের থেমে থাকার সুযোগ নেই।
শহরের শৈলপাড়া এলাকায় ইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক শামসুল আলমকে দেখা যায় মাথায় গামছা বেঁধে, ঘামে ভেজা শরীরে কাজ করছেন। কিছুক্ষণ পরপরই কাজ থামিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “এখন আর আগের মতো টানা কাজ করা যায় না। আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা কাজ করলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই মাঝেমধ্যে মেশিন বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হয়।”
এদিকে তাপপ্রবাহের প্রভাব মোকাবিলায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল বাতেন বলেন, “ঈশ্বরদীতে গরম এমনিতেই বেশি। এ বছর তাপজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে।”
তিনি আরও বলেন, এ সময় বেশি করে পানি পান করতে হবে এবং লেবুর শরবত, ডাবের পানি ইত্যাদি গ্রহণ করা ভালো। সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা ও ছাতা ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া বাইরে খোলা খাবার ও ভাজাপোড়া পরিহার করার পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেন।
(এসকেকে/এসপি/এপ্রিল ১৪, ২০২৬)
